ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রবিবার সন্ধ্যায় নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ নামের একটি প্রতীকী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই উদ্যোগের আয়োজনের পেছনে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত সন্ধ্যা‑পরবর্তী নিষেধাজ্ঞা ও বৈষম্য দূর করার দাবি রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগ ও হলের নারী শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে এই কর্মসূচি পরিচালনা করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাকা সুর (ডাকসুর) কার্যনির্বাহী সদস্য, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং শামসুন্নাহার হলের সহসভাপতি সহ বিভিন্ন শাখার প্রতিনিধিরা।
প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে সন্ধ্যা পর নারীদের কেন্দ্রীয় মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। রাত দশটার পর মল চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের দেখা গেলে তাদের তৎক্ষণাৎ চলে যেতে বলা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কোনো লিখিত নীতি, সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আইনি ভিত্তি ছাড়া কার্যকর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে পুরুষ শিক্ষার্থীরা কোনো বাধা ছাড়াই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে চলাচল, বসা ও আড্ডা দিতে পারে। এই দ্বিমুখী আচরণকে নারী শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তার নামে ধারাবাহিক বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, নিরাপত্তার নামে নারীদের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার সীমাবদ্ধ করা কাঠামোগত বৈষম্য। তারা জোর দিয়ে বলেন, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা না সরিয়ে নারীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে না ওঠা পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হবে।
‘প্রশাসন পোড়াও বারবিকিউ’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্যাম্পাসে বিদ্যমান নিরাপত্তা‑সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট দাবি উপস্থাপন করা। অংশগ্রহণকারীরা এই ইভেন্টের মাধ্যমে তাদের দাবিগুলোকে দৃশ্যমান করে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমান অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।
প্রতিবাদে উত্থাপিত পাঁচটি মূল দাবি নিম্নরূপ। প্রথমত, নারীদের নিরাপত্তা নামে আরোপিত সব ধরনের হয়রানি ও বৈষম্যমূলক বিধিনিষেধ অবিলম্বে বাতিল করা। দ্বিতীয়ত, টিএসসির পুরনো ও অপ্রয়োগযোগ্য টয়লেটগুলো দ্রুত সংস্কার করে ক্যাম্পাস জুড়ে নিরাপদ, পরিষ্কার ও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, পরিচয়পত্র (ক্যাড) জমা সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া বা শর্তাবলী স্পষ্ট করা।
বাকি দুইটি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে যৌন হয়রানি মোকাবেলায় স্বতন্ত্র ও কার্যকরী কমিটি গঠন করা, যা পূর্বে উল্লেখিত নয় এমন অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে প্রস্তাবিত।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী নারীরা উল্লেখ করেন, এই দাবিগুলো পূরণ না হলে তারা ক্যাম্পাসে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবে। তারা প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা প্রকাশ করে।
এই ধরনের প্রতিবাদে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র একাডেমিক দিকেই নয়, ক্যাম্পাসের সামাজিক ও নিরাপত্তা পরিবেশেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়। তাদের দাবি যদি যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর প্রতিবাদ ও আন্দোলন হতে পারে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উচিত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমতা নিশ্চিত করার জন্য স্পষ্ট নীতি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা। বিশেষ করে নারীদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বা স্থানিক সীমাবদ্ধতা আরোপের পরিবর্তে, সমান সুযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: ক্যাম্পাসে কোনো নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার সম্মুখীন হলে, প্রথমে ছাত্র ইউনিয়ন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজন হলে আইনগত সহায়তা নেওয়া উচিত। এভাবে সমস্যার সমাধান দ্রুত ও কার্যকর হতে পারে।



