ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে মব গঠন ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা (এআরও) ইউনিট নং ১, সরাইলের ইউএনও আবুবকর সরকার এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইসির কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি জমা দিয়েছেন।
চিঠিটি শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক আশরাফুল ইসলামের কাছে পাঠানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে রুমিন ফারহানা ইসলামাবাদ গ্রামে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জনসমাবেশের আয়োজন করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
অনুমোদিত কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে সমাবেশটি তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার হাসান খান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে, রুমিন ফারহানার সমর্থক জুয়েল মিয়াকে ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সমাবেশের পর রুমিন ফারহানা নিজে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গিয়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি (লাঠি) দেখিয়ে হুমকি প্রদান করেন। এই আচরণকে মব গঠন ও বিচারিক কাজের বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অধিকন্তু, রুমিন ফারহানার সঙ্গে থাকা জুয়েল মিয়া এবং অন্যান্য সমর্থকদের মারমুখী আচরণ, মব সৃষ্টি এবং দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি দেওয়া—এগুলোকে নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবুবকর সরকার চিঠিতে জানিয়েছেন যে এই বিষয়টি এখন আদালতের এখতিয়ারে রয়েছে এবং যথাযথ আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন। তিনি ইসির নিকট অনুরোধ করেন যে প্রার্থীর এই ধরনের আচরণ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তি প্রদান করা হোক।
রুমিন ফারহানা পূর্বে ৫ আগস্টের একটি সভায় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও সরকারের নিরপেক্ষতার ঘাটতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে কোনো দল বা প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত।
এরপর, রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের চাঁনপুর বাজারে একটি উঠান বৈঠকে রুমিন ফারহানা আবারও প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সংস্থার নিরপেক্ষতা দাবি করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া আসন্ন নির্বাচনে সকল প্রার্থী ও কর্মীকে কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে পারবে না।
ফারহানা তার ৫ লাখ ভোটারকে আহ্বান জানান যে তারা কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ না থাকলে ভোটারদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
এই ঘটনার পর ইসির ও সংশ্লিষ্ট বিচারিক সংস্থাগুলি কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশে এই ধরনের অভিযোগ ও তদন্তের প্রভাব ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রচারণা ও প্রার্থীর কৌশলে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে বিষয়টি আদালতে চলমান এবং ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।



