চট্টগ্রাম রয়্যালস প্রথম কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করতে ৭৭ রান সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে শুরুর দিকে অগ্রসর হয়। তবে ৫৪ রান পর্যন্ত ছয়টি উইকেট হারিয়ে দলটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
শুরুতে দলটি দ্রুত রানের পেছনে ছুটে, কিন্তু ১২তম ওভারে অধিনায়ক মেহেদি হাসানকে তাসকিন আহমেদ (ঢাকা পেসার) ধরা পড়ে এবং তৃতীয় উইকেট হারায়। তাসকিনের তৃতীয় উইকেটের পর, দলটি ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ওভারে একটি করে উইকেট হারাতে থাকে।
প্রথম তিন ওভারে তিনটি উইকেট হারানোর পর, অষ্টম ও নবম ওভারে দু’টি অতিরিক্ত উইকেট নষ্ট হয়। মোহাম্মদ নাঈম রানআউট হওয়ার পর, তফায়েল আহমেদ মেহেদি নওয়াজকে ধরা ফেলেন। ফলে ৯ ওভারের শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম রয়্যালস ইতিমধ্যে পাঁচটি উইকেট হারিয়ে ফেলেছে।
চ্যালেঞ্জিং ১৭১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করা দলটি প্রথম বলেই মোহাম্মদ হারিসকে তাসকিন আহমেদ বোল্ড করে আউট করেন। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলেই ইমাদ ওয়াসিমের লবডব্লিউতে মাহমুদুল হাসানকে আউট করে স্কোর ৭/২ হয়। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলেই সাদমান ইসলামকে তাসকিন আহমেদ ধরা পড়ে, ফলে স্কোর ১৯/৩ হয়ে যায়।
ঢাকা ক্যাপিটালসের ইনিংসও সহজ ছিল না; তারা ২০ ওভার সম্পূর্ণ করতে পারেনি। ১৯.৫ ওভারে দলটি ১৭০ রানে অলআউট হয়। শেষ ১২ বলেই পাঁচটি উইকেট হারিয়ে, ১৬৭ থেকে ১৭০ রানে শেষ হয়ে যায়। ১৮তম ওভারের শেষ বলেই আমের জামাল মোহাম্মদ মিঠুনকে আউট করে ধসের সূচনা হয়। পরের ওভারে শরীফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং তফায়েল আহমেদ একের পর এক আউট হন। শেষ ওভারে ইমাদ ওয়াসিমের রানআউটের পর মারুফ মৃধা লবডব্লিউ হন।
ঢাকার ইনিংসে সর্বোচ্চ স্কোর ৭৩ রান, যা সাইফ হাসান অর্জন করেন। তিনি ৪৪ বলে ৭৩ রান করেন এবং ছয়টি ছক্কা মারার পর শেফুল ইসলামকে ক্যাচ করেন। ১৪.২ ওভারে দলটি ১৩২ রানে পৌঁছায়, তবে সাইফের আউটের পর চট্টগ্রামের ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন আসে। সাইফের সঙ্গে ৯০ রানের অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পর জুবাইদ আকবরি ৩০ বলে ২৯ রান করেন, তবে তানভীর ইসলামের শিকারে আফগান ওপেনার হয়ে বেরিয়ে পড়েন। তানভীরের পরের বলেই শামীম হোসেনকে ধরা পড়ে, আর শামীম মেহেদি হাসানের ক্যাচে নিম্নমানের একটি ধরা দিয়ে শেষ করেন।
সাইফের পূর্বে ৫ অক্টোবর শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৬৪ রান করে অপরাজিত রেকর্ড গড়ে তোলার পর, তিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজের ১৪ই ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের জন্য ৭৭ রান সংগ্রহ করা মানে সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে স্থান নিশ্চিত করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি রানের পেছনে ছুটতে হবে, তবে উইকেটের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি কীভাবে ব্যাটিং রোল পুনর্গঠন করবে এবং বোলিং ইউনিটের পারফরম্যান্স কী হবে, তা নির্ধারণ করবে তাদের কোয়ালিফায়ার যাত্রা।



