27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি, নতুন পে‑স্কেল চূড়ান্ত

সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি, নতুন পে‑স্কেল চূড়ান্ত

বেতন কমিশন সরকারী কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করেছে, যার মাধ্যমে সর্বনিম্ন মূল বেতন বর্তমানের ৮,২৫০ টাকার থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১৮,০০০ টাকা হবে। এই প্রস্তাব ২১ জানুয়ারি উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে জমা দেওয়া হবে এবং অনুমোদিত হলে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে আংশিকভাবে, ২০২৬‑২৭ অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে পূর্ণমাত্রায় কার্যকর হবে।

বেতন কমিশন ২১ সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত, যার নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান। কমিশন গত বছর জুলাই মাসে গঠন করা হয় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কাজ সম্পন্ন করেছে। এখন তারা উপদেষ্টা পরিষদের সামনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে, যেখানে নতুন পে‑স্কেল অনুমোদনের জন্য সবুজ সংকেতের অপেক্ষা থাকবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন ১৮,০০০ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি সর্বোচ্চ বেতন ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ বিশ হাজার টাকারও উপরে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বেতনের অনুপাত ১:৮ রাখা হয়েছে, যাতে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হয় এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতনও সমানভাবে বৃদ্ধি পায়। এই সমন্বয় জীবনের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক চাপ কমাতে লক্ষ্য রাখে।

বেতন বৃদ্ধি বাস্তবায়নের জন্য সরকার অতিরিক্ত ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকার ব্যয় অনুমান করেছে। এই আর্থিক চাপ সামলাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২,০০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বাজেটের এই পরিবর্তন নতুন পে‑স্কেলকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপক্ষের দলগুলো এই প্রস্তাবের ওপর আর্থিক দিক থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করেছে যে অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বের ওপর চাপ বাড়াতে পারে এবং বাজেটের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সরকারী পক্ষ দাবি করে যে বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের মনোবল বাড়াবে এবং সরকারি সেবার গুণগত মান উন্নত করবে।

নতুন পে‑স্কেল অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে কার্যকর হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরকারি সেবা খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে এবং কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে, যা নতুন বেতন কাঠামোর বাস্তবায়নকে সূচনা করবে।

বেতন কমিশনের এই চূড়ান্ত প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকার বেতন বৈষম্য কমিয়ে সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে চায়। বিশেষ করে নিম্নস্তরের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি কর্মচারীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাজনৈতিকভাবে সরকারের অবস্থানকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

বেতন কাঠামোর পরিবর্তন দেশের আর্থিক নীতি ও জনসাধারণের প্রত্যাশার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল তৈরি করবে। নতুন পে‑স্কেল কার্যকর হলে তা সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা, বাজেটের ভারসাম্য এবং জনসেবার গুণগত মানের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। এই প্রস্তাবের পরবর্তী ধাপ হবে উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রজ্ঞাপন জারি, যার পরই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়িত হবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments