চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোববার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের মূল বিষয় ছিল তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী হাসপাতাল এবং শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা এই তিনটি এজেন্ডা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পথ নির্ধারণের চেষ্টা করেন।
বৈঠকটি উভয় পক্ষের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত সবাই একে অপরের মতামত শোনার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বকে পুনরায় জোরদার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আলোচনার সময় উভয় দেশই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পায়। এই প্রকল্পের লক্ষ্য তিস্তা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীর তীরবর্তী ভূমি পুনরুদ্ধার এবং স্থানীয় জনগণের জীবনের মান উন্নয়ন। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীন এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং প্রকল্পের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সরাসরি তিস্তা প্রকল্প এলাকার পরিদর্শন করবেন।
প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সমীক্ষা দ্রুত শেষ করার জন্য চীনের বিশেষজ্ঞ দলকে তিস্তা অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সময়সূচি ত্বরান্বিত হবে এবং স্থানীয় জনগণের জন্য দ্রুত উপকার আসবে বলে উভয় পক্ষ একমত হন। তিস্তা নদীর বন্যা প্রবণতা কমাতে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
বৈঠকে প্রস্তাবিত বাংলাদেশ‑চীন মৈত্রী হাসপাতাল সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই হাসপাতালটি স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং উভয় দেশের চিকিৎসা প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করবে। হাসপাতালের নির্মাণ ও পরিচালনা পরিকল্পনা, তহবিল সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সেবা প্রদানের মডেল নিয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন।
মৈত্রী হাসপাতালের গুরুত্বকে তুলে ধরে বলা হয়, এটি কেবল রোগীর সেবা নয়, বরং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে উভয় দেশের চিকিৎসক ও নার্সদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। চীনের স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বাংলাদেশে স্থানান্তর করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে গুণগত উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষের আশাবাদ প্রকাশ পায়।
চীন সরকার বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উন্নয়নকে সমর্থন করার ইচ্ছা পুনর্ব্যক্ত করে। রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন শীঘ্রই অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের সফলতা কামনা করেন এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান। এই মন্তব্যকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে দেখা হয়।
বৈঠকের সমাপ্তিতে খলিলুর রহমান ও রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উভয়েই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে পারস্পরিক সুবিধা বাড়াতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেন।
এই বৈঠকের ফলস্বরূপ তিস্তা প্রকল্পের প্রযুক্তিগত সমীক্ষা দ্রুত সম্পন্ন হবে, মৈত্রী হাসপাতালের নির্মাণ পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং আসন্ন নির্বাচনে উভয় দেশের সমর্থন ও সহযোগিতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়ন ও জনগণের মঙ্গলের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।



