জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ১০-দলীয় জামায়াত-ই-ইসলাম নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হিসেবে ২৭টি সংসদীয় আসনের প্রার্থীর নাম ও ছবি প্রকাশ করেছে। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পার্টি নিশ্চিত করেছে যে সব প্রার্থী “শাপলা কোলি” প্রতীক ব্যবহার করে নির্বাচনে লড়াই করবে।
এই তালিকা প্রকাশের পূর্বে গত বৃহস্পতিবার জোটের সমন্বয় সভায় ২৫৩টি আসনে পারস্পরিক সমঝোতা ঘোষিত হয়েছিল, যা নির্বাচনী কৌশলের মূল ভিত্তি গঠন করে। এনসিপি এই সমঝোতার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এনসিপি কনভিনার নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, আর সদস্য সচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ থেকে প্রার্থী হবেন। উভয়ই পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে গন্য এবং তাদের নির্বাচনী প্রচারণা জোটের সমগ্র কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতাদের মধ্যে কুমিল্লা-৪ থেকে হসনাত আবদুল্লাহ, পঞ্চগড়-১ থেকে সারজিস আলম, ঢাকা-৮ থেকে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী এবং নোয়াখালী-৬ থেকে আবদুল হান্নান মাসুদ অন্তর্ভুক্ত। এই প্রার্থীরা পার্টির মূল ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি জোটের ভোট ভাগে সমানভাবে অবদান রাখার লক্ষ্য রাখে।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে আরিফ আদিব (ঢাকা-১৮), দিলশানা পারুল (ঢাকা-১৯), নাবিলা তাসনিদ (ঢাকা-২০), জাবেদ রসিন (ঢাকা-৯), আলি নাসের খান (গাজীপুর-২), আবদুল্লাহ আল আমিন (নারায়ণগঞ্জ-৪), সারওয়ার তুষার (নরসিংদি-২) এবং মজেদুল ইসলাম (মুন্সিগঞ্জ-২) প্রার্থীরূপে নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
বাকি তালিকায় লক্ষ্মীপুর-১ থেকে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ-৬ থেকে এস.এম. সাইফ মোস্তাফিজ, বান্দরবান থেকে এস.এম. সুজা উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে মাওলানা আশরাফ মাহদি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ থেকে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, চট্টগ্রাম-৮ থেকে জবাইরুল হাসান আরিফ, নোয়াখালী-২ থেকে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, দিনাজপুর-৫ থেকে মো. আবদুল আহাদ, কুড়িগ্রাম-২ থেকে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ-১১ থেকে জাহিদুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৩ থেকে সাইফুল্লাহ হায়দার, পিরোজপুর-৩ থেকে শামিম হামিদি এবং নাটোর-৩ থেকে এস.এম. জারজিস কাদির অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিটি প্রার্থীর ছবি ও সংক্ষিপ্ত জীবনী ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে, যা ভোটারদের প্রার্থীর পরিচয় ও পটভূমি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। পার্টি উল্লেখ করেছে যে সব প্রার্থী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সকল প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে এবং নির্বাচনী ফর্ম জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
এই ঘোষণার ফলে এনসিপি ২৭টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, যা জোটের মোট আসন ভাগে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পার্টির উপস্থিতি জোটের ভোট সংগ্রহে সমর্থন বাড়াতে পারে, তবে একই সময়ে অন্যান্য জোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হবে।
পরবর্তী ধাপে প্রার্থীরা নামনির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করবে, ভোটার সংযোগ স্থাপন ও স্থানীয় সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে। নির্বাচনী কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সকল প্রার্থীর নামনামা ফরম জমা হবে, এবং ভোটারদের কাছে পার্টির নীতি ও কর্মসূচি তুলে ধরার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে।



