সিরিয়ার সরকারী সেনাবাহিনী উত্তর-পূর্বে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (SDF) থেকে দেশের সর্ববৃহৎ তেলক্ষেত্র ওমার নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তেলক্ষেত্রের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গ্যাসক্ষেত্রও সেনাবাহিনীর হাতে পড়েছে, যা পূর্বে SDF-এর প্রধান আয় উৎস ছিল।
SDF দশকের বেশি সময় ধরে ইস্লামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল দখল করে রেখেছিল। এই অঞ্চলগুলোতে তারা তেল ও গ্যাসের উৎপাদন থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অর্জন করত, যা তাদের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করত।
সপ্তাহান্তে সিরিয়ার সেনাবাহিনী পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ইউফ্রেটিস নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম তীরে অবস্থিত তাবকা শহর ও তার পার্শ্ববর্তী বাঁধ দখল করে। তাবকা বাঁধের নিয়ন্ত্রণের ফলে সরকারী বাহিনীর জন্য নদীর জলসম্পদ ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর কৌশলগত সুবিধা অর্জিত হয়েছে।
এরপরের দিন, সরকারী সূত্র জানায় যে ওমার তেলক্ষেত্র, যা দেশের সর্ববৃহৎ তেল উৎপাদন কেন্দ্র, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই তেলক্ষেত্রের দখল SDF-এর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করার পাশাপাশি সিরিয়ার সরকারকে তেল রপ্তানি থেকে সরাসরি উপার্জনের সুযোগ দেবে।
সিরিয়ার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সাইরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, SDF পূর্বের কয়েকটি গ্রাম ও শহর, পাশাপাশি ওমার ও তানাক তেলক্ষেত্র থেকে সরে গিয়েছে। এই প্রত্যাহারটি পূর্বে সংঘটিত তীব্র সংঘর্ষের পর এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরের ফলাফল বলে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন।
সিরিয়ার সরকার SDF-কে ইউফ্রেটিস নদীর দুইটি সেতু ধ্বংসের অভিযোগও তুলেছে, যার মধ্যে রশিদ সেতু, যা রাক্কা শহরের নতুন সেতু, অন্তর্ভুক্ত। সেতু ধ্বংসের ফলে নদীর পারাপার ও বাণিজ্যিক গতি ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সাম্প্রতিক সময়ে কুর্দি ভাষাকে জাতীয় ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কুর্দি নববর্ষকে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণার মাধ্যমে কুর্দি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক মসৃণ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ঘোষণাটি ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর কুর্দি জাতীয় অধিকার স্বীকৃতির প্রথম আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গঠিত SDF, আল-শারার সঙ্গে আলোচনার পর ইউফ্রেটিসের পূর্ব তীরে তাদের অবস্থান ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়। এই পদক্ষেপটি কুর্দি বাহিনীর কৌশলগত পুনর্গঠন এবং সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা ব্যাখ্যা করেন।
আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাশিদ আল-হাসান মন্তব্য করেন, “সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর তেলক্ষেত্র দখল এবং কুর্দি ভাষার স্বীকৃতি দুটোই সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সমাধানে নতুন মোড় নির্দেশ করে। তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সরকার আর্থিক স্বায়ত্তশাসন বাড়াবে, আর ভাষা স্বীকৃতি কুর্দি জনগণের রাজনৈতিক সন্তুষ্টি বাড়াতে পারে, তবে বাস্তবায়ন না হলে উত্তেজনা পুনরায় বাড়তে পারে।”
পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার সরকারী বাহিনীর অগ্রগতি, কুর্দি স্বায়ত্তশাসনের বাস্তবায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার মূল সূচক হবে। তাবকা বাঁধের নিরাপত্তা, ইউফ্রেটিসের সেতু পুনর্নির্মাণ এবং ওমার তেলক্ষেত্রের উৎপাদন পুনরায় চালু করা পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



