কারাচি শহরের গুল প্লাজা শপিং সেন্টারে শনিবার সন্ধ্যায় অগ্নিকাণ্ড ঘটায় ছয়জনের প্রাণহানি, যার মধ্যে একজন ফায়ারফাইটারও অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় জরুরি সেবা জানায়, দু’শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে এবং এখনও কিছু ব্যক্তি ভবনের ভেতরে আটকে থাকতে পারে।
গুল প্লাজা প্রায় ৮,০০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে ১,২০০টি দোকান সমন্বিত একটি বহুতল বাণিজ্যিক কেন্দ্র। আগুনের তীব্রতা এবং কাঠামোর দুর্বলতা কারণে কিছু অংশ ধসে পড়ে, যা উদ্ধারকাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সকালবেলা পর্যন্ত অগ্নি মূলত তল থেকে উপরের তল পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়, ফলে পুরো ভবন প্রায় সম্পূর্ণভাবে শিখায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়। দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনের বিস্তার দ্রুত হওয়ায় তারা তৎক্ষণাৎ সব তল নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে চলেছেন।
রবিবারের প্রাতঃকালে ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া এখনও উঁচুতে উঠে আসছে, যা আশেপাশের এলাকায় শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার সৃষ্টি করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্কতা মেনে দূরত্ব বজায় রাখছে।
গুল প্লাজার ভিতরে প্লাস্টিক ফোম, কাপড়, কার্পেট এবং পারফিউমের মতো দাহ্য উপকরণ প্রচুর পরিমাণে সংরক্ষিত ছিল, যা অগ্নিকাণ্ডকে তীব্রতর করে তুলেছিল। এই ধরনের উপকরণ দ্রুত দহন করে বিশাল ধোঁয়া উৎপন্ন করে, ফলে দমকলকর্মীদের কাজ আরও জটিল হয়ে ওঠে।
প্রায় বিশটি ফায়ার ট্রাক এবং অন্যান্য রেসকিউ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, তবে ভবনের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য ধসে পড়ার ঝুঁকির কারণে তারা সতর্কভাবে কাজ করছে। দমকলকর্মীরা ভবনের অতিরিক্ত ধসে পড়া রোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
আহতদের মধ্যে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তদের অবিলম্বে শহরের সিভিল হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসা চলছে। মৃতদেহগুলোও একই হাসপাতালের সিভিল বিভাগে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে বৃহৎ দুর্যোগেরূপে বিবেচনা করে জরুরি প্রোটোকল প্রয়োগ করেছে।
রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ঘটনায় শোক প্রকাশ করে, সিন্দ প্রদেশের সরকারকে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেন। তিনি ভবনের নির্মাণ মান এবং অগ্নি নিরাপত্তা বিধি মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে, দমকলকর্মীরা এখনও ভবনের ভেতরে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসাবশেষের মধ্যে সম্ভাব্য বেঁচে থাকা ব্যক্তির সন্ধান পেতে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, গুল প্লাজা শপিং সেন্টারের এই অগ্নিকাণ্ড শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা উন্মোচিত করেছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।



