বিএপিএল লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের ব্যাটসম্যান সাইফ হাসান ৫০ রান সম্পন্ন করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে এই মুখোমুখি ম্যাচে সাইফের আক্রমণাত্মক শৈলীই প্রধান আকর্ষণ ছিল।
সাইফের ফিরে আসা ৩.৫ মাসের বিরতির পরের প্রথম বড় পারফরম্যান্সে তিনি ২২ বলে ৪১ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে চারটি চতুর্থ এবং তিনটি ছয়টি ছিল। দশম ওভারের তৃতীয় বলেই ফ্রি হিটে এক বিশাল ছয় মারতে পেরে তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
শক্তি বৃদ্ধির এই পর্যায়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের পাওয়ারপ্লে ছয় ওভারে ৫৩ রান করে এক উইকেট নেয়। সাইফের ১৫ বলের ২৬ রান এবং আফগান ওপেনার জুবাইদ আকবরির ৬ রান এই দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তৃতীয় ওভারে তানভীর ইসলাম প্রথম বলেই আফগান ওপেনারকে আউট করেন, এরপর তানভীর শামীম হোসেনকে সরিয়ে দেন। শামীমের ক্যাচে মেহেদী হাসানকে নিচু একটি ক্যাচ দিয়ে আউট করা হয়।
উসমান খানকে তানভীরই তৃতীয় বলেই গৃহীত করে, তবে তার আগের ওভারে ৩ বলে ১২ রান করে আমের জামালের ক্যাচে আটকে যায়। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানের শেষ বলেই চারটি রান হয়, তার পর উসমান ছয় বলে ১৬ রান করে দলকে ২৫ রানে রেখে চলে যান।
সাইফের পরবর্তী উইকেট নেওয়া হয়, যা চট্টগ্রামের স্পিনারকে আরও এক সুযোগ দেয়। পূর্বের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের শারিফুল ইসলাম ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেয়া ছিল তার সেরা পারফরম্যান্স।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের পেসার প্রথম ওভারে মাত্র এক রান ছেড়ে শুরু করে, আর পরের ওভারে মুকিদুল ইসলামের গতি দ্রুত করে ঢাকা ক্যাপিটালসকে অতিরিক্ত রান দেয়। দ্বিতীয় ওভারে উসমান খান ও জুবাইদ আকবরি মিলিয়ে ১৯ রান যোগ করেন।
এই জয় দিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্লে‑অফে যাওয়ার নিশ্চিততা আগে থেকেই নিশ্চিত হয়। চট্টগ্রামও একই সঙ্গে প্লে‑অফে স্থান পায়, তবে লিগের শেষ ম্যাচটি এখনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি সরাসরি প্রথম কোয়ালিফায়ারে যাওয়ার অধিকার নির্ধারণ করবে।
মেহেদী হাসানের দলে বড় ব্যবধানে না হারলে প্রথম কোয়ালিফায়ারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত হবে। এই ম্যাচে টসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নেন, যা রাইডারসকে এলিমিনেটরে ঠেলে দেয়।
চট্টগ্রামকে রঙপুর রাইডার্সকে কোয়ালিফায়ারে তুলতে হলে ৯০ রানের বেশি ব্যবধানে জয়লাভ করতে হবে। তাই পরবর্তী ম্যাচে দলকে আক্রমণাত্মক রণদক্ষতা এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বলিং প্রদর্শন করতে হবে।
সাইফের অর্ধশতক এবং দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ঢাকা ক্যাপিটালসের পরবর্তী পর্যায়ে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। তানভীরের ধারাবাহিক উইকেট নেওয়া এবং শারিফুলের স্পিনের প্রভাবও চট্টগ্রামের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
বিএপিএল লিগের শেষ পর্যায়ে উভয় দলই উচ্চমানের ক্রিকেট উপস্থাপন করেছে, এবং পরবর্তী কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলোতে এই গতি বজায় রাখলে শিরোপা দৌড়ে তাদের অবস্থান শক্তিশালী হবে।



