রবিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ঢাকা‑বরিশাল মহাসড়কে মাদারীপুর সদর উপজেলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ইজিবাইকের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ তিনজনের প্রাণহানি হয়; দুজন ইজিবাইক চালক এবং বাসের একজন সহকারী নিহত।
দুর্ঘটনা ঘটেছে গঠকচর এলাকার কাছাকাছি, যেখানে ঢাকা থেকে বরিশালগামী সার্বিক পরিবহনের একটি বাস চলমান অবস্থায় সড়কে চলমান ইজিবাইকের ওপর আঘাত করে। বাসটি দ্রুত গতি বজায় রেখে ইজিবাইকের সঙ্গে ধাক্কা খায়, ফলে উভয় পক্ষই গুরুতর আঘাত পায়।
মৃত্যুজনিত শিকারদের মধ্যে একজন ছিলেন মাদারীপুর শহরের কলেজ রোডের বাসিন্দা পান্নু মুন্সী। তিনি সার্বিক পরিবহনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন এবং বাসের কর্মী হিসেবে দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অন্য দুই শিকার ইজিবাইক চালক, যাদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
মাদারীপুর সদর থানার ওয়্যারড অফিসার (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি তৎক্ষণাৎ উদ্ধার কাজের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর মুহূর্তের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের হাইড্রান্ট ব্যবহার করে আগুন নিভিয়ে এবং গাড়ি-গাড়ি সরিয়ে সড়কটি পুনরায় চালু করা হয়। ট্র্যাফিক পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি চালকদের সতর্কতা বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ দল ঘটনাস্থলে তদন্ত শুরু করে। তারা গতি, গাড়ির গিয়ার, ব্রেকের অবস্থা এবং ইজিবাইকের টায়ার চেক করে সম্ভাব্য ত্রুটি নির্ণয় করবে বলে জানায়। এছাড়া, দুর্ঘটনার সময় রোডের দৃশ্যমানতা, আলোর অবস্থা এবং ট্র্যাফিক সিগনালের কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত আইনি দিক থেকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ট্রাফিক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যদি কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্ট চালক ও বাসের মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের মতে, ইজিবাইক চালকদের জন্য সড়কে নিরাপদে চলাচলের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি। বিশেষ করে হাইওয়ে মত দ্রুতগতির রাস্তায় গতি সীমা অতিক্রম করা, হেডলাইট না চালানো বা অপ্রয়োজনীয় ওভারটেকিং করা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
বিপর্যয়জনিত শোক প্রকাশে মাদারীপুরের স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শোক জানিয়েছে। শোকের সময়ে মৃতদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য স্থানীয় সরকার জরুরি তহবিল গঠন করেছে।
দুর্ঘটনা ঘটার পর, স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে আহতদের তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল, তবে শারীরিক ক্ষতি গুরুতর হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে।
মাদারীপুরের রাস্তায় এই ধরনের দুর্ঘটনা আগে-ও ঘটেছে, তবে এইবারের ঘটনা বিশেষভাবে দুঃখজনক কারণ এতে কর্মী ও সাধারণ যাত্রী দুজনই প্রাণ হারিয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও ট্র্যাফিক নিয়মের অবহেলা পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় পুলিশ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে রোড সাইনেজ বাড়ানো, গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা এবং রোড সেফটি ক্যাম্পেইন চালানোর পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, ইজিবাইক চালকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের বিস্তারিত জানার জন্য মাদারীপুর সদর থানার অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করবে।
এই ঘটনার পর, ট্র্যাফিক নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের সচেতনতা বাড়াতে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত। সড়কে সকল ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা প্রতিরোধ করা এখনই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।



