ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় হজযাত্রীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ৮০টি টিকাদান কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকাভুক্ত কেন্দ্রগুলোতে মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা প্রদান করা হবে, যা হজের সময় সংক্রমণ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তথ্যটি শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, মন্ত্রণালয়ের হজ‑১ শাখা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। এতে টিকাদান প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথি এবং যোগাযোগের নম্বরসহ সম্পূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই বছর মোট ৬৪টি সিভিল সার্জন অফিস থেকে টিকাদান করা যাবে। সিভিল সার্জন অফিসগুলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে এবং হজযাত্রীদের নিকটস্থ অবস্থান থেকে সুবিধাজনক সেবা নিশ্চিত করবে।
ঢাকার মধ্যে, হজযাত্রীরা নিম্নলিখিত হাসপাতালগুলোতে টিকাদান নিতে পারবে: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ সচিবালয় ক্লিনিক। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারী স্বীকৃত এবং টিকাদানের মানদণ্ড পূরণ করে।
ঢাকার বাইরের এলাকায়ও টিকাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গাজীপুরে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেটে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বগুড়ায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল এবং দিনাজপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল থেকে টিকাদান করা যাবে। এই কেন্দ্রগুলো হজযাত্রীর ভৌগোলিক নিকটত্ব বিবেচনা করে নির্বাচিত হয়েছে।
টিকাদানের নির্দিষ্ট তারিখগুলো পরে হজযাত্রীদের মোবাইলের মাধ্যমে ছোট বার্তা (এসএমএস) আকারে জানানো হবে। তাই টিকাদান পরিকল্পনা করা যাত্রীরা তাদের মোবাইল নম্বর আপডেট রাখার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
টিকাদান গ্রহণের জন্য হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টের পাশাপাশি, হজ পোর্টাল (www.hajj.gov.bd) থেকে ই‑হেলথ প্রিন্ট আউট করে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। এই নথিগুলো টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থাপন করলে প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে।
যেকোনো অতিরিক্ত তথ্য বা সহায়তার জন্য হজ ব্যবস্থাপনা দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রণালয় ১৬১৩৬ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে। হজযাত্রীরা সময়মতো টিকাদান সম্পন্ন করে, হজের সময় সম্ভাব্য সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে পারে এবং নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ হজযাত্রীর স্বাস্থ্যের প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে। টিকাদান কেন্দ্রের বিস্তৃত তালিকা এবং স্পষ্ট নির্দেশনা হজযাত্রীদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সহজ করবে। সকল হজযাত্রীকে সময়মতো টিকাদান সম্পন্ন করে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিক থেকে সজাগ থাকতে এবং হজের পবিত্র যাত্রা নিরাপদে সম্পন্ন করার জন্য পরিকল্পনা করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।



