রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি, ১৮ জানুয়ারি রবিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত তিন দাবির অবস্থান কর্মসূচিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে দৃঢ় মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে দলটি জয় অর্জন করে ঘরে ফিরে আসবে।
কর্মসূচির সময় রাকিবের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল আসন্ন ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া বিএনপি-সমর্থিত নির্বাচনী প্রচার। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রদলটি এই প্রচারে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে।
রাকিব একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কথা তুলে ধরেন, যাদের গত দেড় বছর ধরে সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে অবাধ প্রবেশের সুবিধা ছিল। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং এখন নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য গোপন পরিকল্পনা চালু করেছে।
তিনি সতর্ক করেন, এমন গোষ্ঠী যখন জোটের নামে সমর্থন পায় না, তখন তারা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ফাঁক-ফোকর খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। রাকিবের মতে, এই ধরনের ষড়যন্ত্রের মুখে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রক্ষা করা জরুরি, তাই সকল সদস্যকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
রাকিব আরও বলেন, যদি কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে ছাত্রদল কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তিনি “দাঁত ভাঙা” রূপক ব্যবহার করে বলছেন, যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং যারা ধর্ম বিক্রি করে ভোট সংগ্রহের চেষ্টা করবে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে।
বক্তব্যের ধারায় রাকিব উল্লেখ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে এবং বিজয়ী হয়ে ঘরে ফিরে আসবে। তিনি দলের প্রস্তুতি ও সংগঠনের শক্তি তুলে ধরে বলছেন, ভোটারদের সঙ্গে সংলাপ এবং মাঠ পর্যায়ের কাজের মাধ্যমে ফলাফল নিশ্চিত করা হবে।
রাকিবের শেষ মন্তব্যে তিনি সতর্কতা জানান, দলের দাবি পূরণ না হলে তারা সারারাত ধরে বিরোধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম বাধা দিতে পারে। এই সতর্কতা রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি-সমর্থিত নির্বাচনী প্রচার ২২ জানুয়ারি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ছাত্রদলটি বিভিন্ন জেলা ও শহরে সমাবেশ, র্যালি এবং দরজায় দরজা ক্যাম্পেইন চালাবে। রাকিবের মতে, এই প্রচার কার্যক্রম ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তুলবে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা রাকিবের মন্তব্যকে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। তিনি যে সতর্কতা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



