শিঙ্গুরের সিঙ্গুরে, ১৮ জানুয়ারি রবিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মেগা জনসভার আগে বিজেপি কর্মীরা সকালবেলা দলবদ্ধভাবে ডিম‑ভাত খেয়ে শক্তি সঞ্চার করেন। এই ব্যবস্থা কর্মীদের দীর্ঘ সময়ের সভায় সক্রিয় থাকতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়।
সকালের তাপমাত্রা শীতল থাকলেও কর্মীরা গ্রামাঞ্চলে একত্রিত হয়ে অস্থায়ী ইটের উনুনে বড় কড়াইতে খাবার রান্না করেন। খাবার প্রস্তুতির জন্য স্থানীয় বাসা-গৃহে সাময়িক চুলা গড়ে তোলা হয় এবং কর্মীরা নিজে হাতে খাবার পরিবেশন করেন।
মেনুতে গরম ভাতের সঙ্গে সেদ্ধ ডিমের ঝোল প্রধান পদ হিসেবে পরিবেশন করা হয়, কিছু স্থানে সয়াবিনের তরকারি অতিরিক্ত পদ হিসেবে যোগ করা হয়। ডিম‑ভাতের সহজতা ও পুষ্টিকর গুণের কারণে এটি দ্রুত প্রস্তুত করা যায় এবং কম খরচে বড় পরিসরে সরবরাহ করা সম্ভব।
বিজেপি কর্মীরা বলেন, সীমিত সময়ে এবং কম ব্যয়ে এ ধরনের খাবারই সবচেয়ে উপযুক্ত, যা শারীরিক শক্তি বাড়িয়ে দেয় এবং দীর্ঘ সময়ের জনসভায় মনোযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই তারা ঐতিহ্যবাহী ডিম‑ভাতকে শক্তি বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বঙ্গের রাজনীতিতে বড় সভার আগে কর্মীদের ডিম‑ভাত সরবরাহের প্রথা বহু বছর ধরে চলে আসছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ব্রিগেডেও একই রকম খাবার পরিবেশন করা হয়েছিল, যা তখন সামাজিক মাধ্যমে হাস্যকর মন্তব্যের সৃষ্টি করেছিল। ঐ সময়ের ‘ডিম্ভাত’ শব্দটি বানান ভুলের কারণে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
এই প্রথা কোনো একক দলের সীমাবদ্ধ নয়; তৃণমূলের ২০১৯ সালের ব্রিগেড, বামপন্থী সমাবেশ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক সমাবেশেও কর্মীদের জন্য ডিম‑ভাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে দেখা যায়, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য সত্ত্বেও সস্তা ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে ডিম‑ভাতের ওপর সব দলই নির্ভরশীল।
বিজেপি কর্মীদের মতে, ডিম‑ভাতের পুষ্টিগুণ দীর্ঘ সময়ের বক্তৃতা ও জনসভার চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট। এছাড়া, এই খাবারটি স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদনকে সমর্থন করে এবং লজিস্টিক দিক থেকে সহজে সরবরাহযোগ্য। তাই এটি রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
শিঙ্গুরের টাটার মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভা, তৃণমূলের দুর্নীতি অভিযোগ ও সিঙ্গুরের হারিয়ে যাওয়া শিল্প পুনরুদ্ধারের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত। কর্মীরা সকাল থেকে বাসে করে রওনা হয়ে মাঠে পৌঁছান এবং সভার আগে শক্তি সঞ্চারের জন্য ডিম‑ভাতের ভোজ গ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই ধরনের খাবার ব্যবস্থা কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে তুলবে এবং জনসভায় উপস্থিতির সংখ্যা বাড়াতে সহায়তা করবে। ভবিষ্যতে অন্যান্য দলও এই প্রথা অব্যাহত রাখতে পারে, যা রাজনৈতিক সমাবেশের প্রস্তুতি ও পরিচালনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।



