শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকালে কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা বাজারে সরকারী জমি দখল করে অবৈধভাবে বাজার গড়ে তোলার অভিযোগে পারভেজ নামের এক ব্যক্তি ও তার সহকারীদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটক করা হয় এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। একই সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ইউনিয়ন নোঙর অফিসার (ইউএনও) ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তীব্র বিতর্কে লিপ্ত হন।
লেঙ্গুরা বাজারের কিছু অংশে পারভেজসহ স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সরকারী জমি অনধিকারভাবে দখল করে তাতে অস্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার অভিযোগ উঠে। স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়টি জানার পর ১৭ জানুয়ারি বিকেলে মোবাইল কোর্টের আয়োজন করে, যেখানে পারভেজকে আটক করে এবং নির্দিষ্ট অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমের সময় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত হয়ে ইউএনওকে প্রশ্ন করেন, কেন এই ধরনের আদালত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং কে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চেয়ারম্যানের প্রশ্নের উত্তরে তাকে বলা হয়, “আপনি কেন মোবাইলে কোর্টে আসলেন, কার কাছে জিজ্ঞেস করে এসেছেন”।
চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “আমি এই এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি, তাই জনগণের স্বার্থে কী ঘটছে তা জানার অধিকার আমার আছে। তবে প্রশাসন থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি, এমনকি একজন মানুষ হিসেবে আমার মূল্যায়নও করা হয়নি”। তার বক্তব্যে তিনি প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব ও নিজের ভূমিকা সম্পর্কে জোর দেন।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুদুর রহমান উল্লেখ করেন, “ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া মোবাইল কোর্ট চালানো যায় না, আইনে এমন কোনো ধারা নেই”। তিনি এ কথায় ইঙ্গিত দেন যে বর্তমান প্রক্রিয়াটি আইনি ভিত্তি থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারে।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, “ঘটনার প্রমাণসহ আমরা বিষয়টি সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। সরকার যে আইনি পদক্ষেপ নেবে, সেটাই কার্যকর হবে”। তিনি বিষয়টি উচ্চতর পর্যায়ে তুলে ধরার কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার দিকে ইঙ্গিত করেন।
এই ঘটনার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতি ও তার প্রশ্নগুলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে আলোচনার সূচনা করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি এই বিতর্কের ফলস্বরূপ আইনি স্পষ্টতা না আসে, তবে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের প্রবণতা বাড়তে পারে, যা নির্বাচনী সময়ে রাজনৈতিক গতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারী দিক থেকে কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রকাশিত হয়নি, তাই বিষয়টি পরবর্তী দিনগুলোতে কীভাবে এগোবে তা দেখা বাকি।



