জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত শেষ দিনের শুনানিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত হন। শুনানিটি ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলেছে এবং রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তি লক্ষ্য করে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই শুনানির দ্বিতীয়ার্ধে ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন, বিশেষত দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপিলের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এনসিপির মিডিয়া সেল সমন্বয়ক মাহবুব আলমের মতে, শেষ দিনেই বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল শোনা হবে এবং পার্টি এই বিষয়গুলোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মোট ৬৪৫টি আপিল দাখিল হয়েছে। এর মধ্যে ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি গত শনিবার অনুষ্ঠিত হয়। আপিল গ্রহণের কাজ ৫ জানুয়ারি শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি শেষ হয়েছে, আর রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৭২৩টি মনোনয়ন বাতিল করে ছিলেন।
শুনানির সময়সূচি অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের নিষ্পত্তি ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সম্পন্ন হবে। প্রার্থীদের প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত, এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
নির্বাচনী প্রচারণা ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত চালিয়ে যাবে। ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, যেখানে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটদান করা যাবে।
এনসিপি এই আপিল প্রক্রিয়াকে পার্টির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রার্থীদের অংশগ্রহণের অনুমোদন পেলে পার্টির প্রার্থী তালিকায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ হবে বলে তারা আশাবাদী। একই সঙ্গে, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ফলাফল পার্টির ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
শুনানির শেষ দিনে উপস্থিত থাকা অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও তাদের আপিলের দিকনির্দেশনা স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের কাছ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসারে, আপিলের নিষ্পত্তি শেষ হওয়ার পর প্রার্থীদের প্রত্যাহার, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ এবং প্রতীক বরাদ্দের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। এই প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
এনসিপি পার্টির মুখপাত্রের উপস্থিতি এবং তার বক্তব্য পার্টির নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পার্টি এখন পর্যন্ত যে সংখ্যক প্রার্থী বাতিল হয়েছে এবং তাদের আপিলের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে চায়, যাতে নির্বাচনী কৌশল পুনর্গঠন করা যায়।
শুনানির শেষ দিনটি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে বিশেষ গুরুত্ব পায়, কারণ এই সময়ে আপিলের ফলাফল নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন গতিবিধি তৈরি করতে পারে। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ফলাফল পার্টির প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আনতে পারে, যা ভোটারদের পছন্দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি অনুসারে, ভোটগ্রহণের আগে প্রচারণার সময়সীমা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে, এবং ভোটের দিন ভোটদান প্রক্রিয়া সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত চলবে। এই সময়সূচি সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য, যা নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে সমান সুযোগ প্রদান করবে।
সারসংক্ষেপে, ১৮ জানুয়ারি শেষ হওয়া শেষ দিনের EC শুনানিতে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে পার্টির আপিলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই শুনানি এবং আপিলের ফলাফল দেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রারম্ভিক ধাপকে নির্ধারণ করবে।



