ধর্ম মন্ত্রণালয় (ভূমি মন্ত্রণালয়) রোববার একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, সরকারী ভূমিসেবা সিস্টেমের মাধ্যমে জারি করা দাখিলা, খতিয়ান ও ডিসিআর-এ সংযুক্ত QR কোডের নকল তৈরি করে প্রতারণা করা হচ্ছে। এই নকল ডকুমেন্টগুলো একাধিক সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠী ব্যবহার করে সাধারণ নাগরিককে ধোঁকা দিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, অপরাধীরা সরকারী সিস্টেমের QR কোডের চেহারা নকল করে, তা দাখিলা, খতিয়ান ও ডিসিআর-এ যুক্ত করে এবং এই নকল ডকুমেন্টগুলো বিক্রি করে। ফলে, জমি মালিকানা বা কর সংক্রান্ত লেনদেনে জড়িত মানুষ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই ধরনের নকল ডকুমেন্ট তৈরি ও বিতরণ করা বর্তমান আইন অনুযায়ী অপরাধ এবং এর জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত। সরকারী সেবা নিরাপদ রাখতে এবং নাগরিকের স্বার্থ রক্ষায়, ভূমি মন্ত্রণালয় ‘ভূমি’ নামের মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে QR কোডের সত্যতা যাচাই করা যাবে।
অ্যাপটি ব্যবহার করে দাখিলা, খতিয়ান বা ডিসিআর-এ থাকা QR কোড স্ক্যান করলে সংশ্লিষ্ট তথ্য সরাসরি ভূমিসেবা সিস্টেম থেকে প্রদর্শিত হবে। যদি স্ক্যানের ফলাফল প্রত্যাশিত না হয়, অথবা তথ্যের সাথে কোনো অসঙ্গতি দেখা যায়, তবে তা নকলের ইঙ্গিত হতে পারে।
মন্ত্রণালয় নাগরিকদের নির্দেশ দিয়েছে যে, QR কোড যাচাইয়ের সময় কোনো ত্রুটি, অস্বাভাবিকতা বা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ হলে তৎক্ষণাৎ হটলাইন নম্বর ১৬১২২-এ যোগাযোগ করতে। হটলাইনটি ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।
দাখিলা, খতিয়ান ও ডিসিআর-র পার্থক্য স্পষ্ট করা হয়েছে। দাখিলা হল ভূমি কর বা খাজনা আদায়ের পর প্রদান করা রশিদ; ডিসিআর হল অন্যান্য সরকারি পাওনা আদায়ের পর জারি করা রশিদ; আর খতিয়ান হল জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা, জমির মালিকানা ও সীমানা সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ। এই তিনটি নথি সরকারী QR কোডের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে সংযুক্ত থাকে।
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, নকল দাখিলা, খতিয়ান বা ডিসিআর তৈরি, বিক্রি বা ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধের আওতায় পড়ে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী, অপরাধীকে জরিমানা, কারাদণ্ড বা উভয়ই হতে পারে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে যে, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে, ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত বিভাগ নকল ডকুমেন্টের উৎপাদন ও বিতরণ চেইন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে কয়েকটি সন্দেহজনক গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহের সঙ্গে সঙ্গে আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, সরকারী দাখিলা, খতিয়ান ও ডিসিআর-র QR কোডের সত্যতা যাচাই করতে ‘ভূমি’ অ্যাপ ব্যবহার করা এবং কোনো সন্দেহজনক তথ্যের ক্ষেত্রে ১৬১২২ হটলাইনে অবিলম্বে জানানো নাগরিকের দায়িত্ব। এভাবে নকল ডকুমেন্টের বিস্তার রোধ করে ভূমি সেবার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



