28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeশিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে সিগারেট বিনামূল্যে বিতরণে DUCSU-র সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসার্টে সিগারেট বিনামূল্যে বিতরণে DUCSU-র সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়ন (DUCSU) গতকাল ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ‘কুয়াশার গান’ কনসার্টে সিগারেট বিনামূল্যে বিতরণে তীব্র সমালোচনার মুখে। ছাত্র-ছাত্রীরা সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ তুলেছেন যে, কনসার্টের স্টল থেকে ধূমপান সামগ্রী বিনা মূল্যে সরবরাহ করা হয়েছিল এবং DUCSU এই অনুষ্ঠানে ‘স্পিরিট অব জুলাই’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে।

কনসার্টটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে স্টলে সিগারেটের বিনামূল্যে বিতরণ ঘটার পর, অনেক ছাত্র তাৎক্ষণিকভাবে টুইটার ও ফেসবুকে পোস্ট করে টবাকো নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন।

শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন যে, ধূমপান ও তামাক পণ্য ব্যবহারের (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫, ২০১৩ সংশোধনী অনুসারে, ধূমপান পণ্যকে বিনামূল্যে বা কম দামে বিতরণ করা নিষিদ্ধ। আইনটির ধারা ৫(খ) স্পষ্টভাবে এই ধরনের প্রচারকে নিষিদ্ধ করে এবং ধারা ৫(গ) ইভেন্টের স্পনসরশিপের মাধ্যমে তামাকের প্রচারকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

উল্লেখিত বিধান অনুযায়ী, এই ধরনের লঙ্ঘনের শাস্তি সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড অথবা এক লাখ টাকার জরিমানা হতে পারে। তাছাড়া, ধারা ৬(খ) অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, ক্রীড়া ক্ষেত্র এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি করা হলে পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা আরোপিত হয়।

কনসার্টের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য বিষয়ক সচিব মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে বিশেষভাবে সমালোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তার দায়িত্বে প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে এমন একটি কার্যক্রম কীভাবে অনুমোদিত হয়েছে।

মুসাদ্দিক আলী ফেসবুকে একটি পোস্টে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং জানান যে, তিনি কনসার্টের আয়োজনের সময় একমাত্র DUCSU প্রতিনিধিত্বকারী ছিলেন, তবে স্পনসরশিপ বা চুক্তি সংক্রান্ত কোনো আলোচনায় অংশ নেননি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কনসার্টের চাহিদা পূরণের জন্য ‘স্পিরিট অব জুলাই’ এর সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কনসার্টের স্পনসর সংস্থা ‘এক্স ফোর্স’ সম্পর্কে তিনি অনলাইন ও অফলাইন উভয়ই অনুসন্ধান করেন, তবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তার উদ্দেশ্য ছিল স্পনসরের বৈধতা যাচাই করা, যাতে কোনো অবৈধ তামাক প্রচার না হয়।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ইভেন্টে তামাক পণ্য বিতরণ করা উচিত নয়, তা আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে যথাযথ।

বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে এখন একটি স্পষ্ট বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে তামাকের কোনো ধরণের প্রচার বা বিতরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করতে সকল সংগঠনকে আইনগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহারিক পরামর্শ: যদি কোনো ক্যাম্পাস ইভেন্টে তামাক বা ধূমপান সামগ্রী দেখতে পান, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়ন বা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা বিভাগে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করুন। আপনার ছোট উদ্যোগই বৃহত্তর পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
শিক্ষা প্রতিবেদক
শিক্ষা প্রতিবেদক
AI-powered শিক্ষা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments