রবিবার প্রেস উইংের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, জুলাই ২০২৫ সালে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন গণভোটে সমর্থন দেওয়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বিপরীত দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক যুক্তি দেন যে, একটি অস্থায়ী প্রশাসনের ‘হ্যাঁ’ সমর্থন তার নিরপেক্ষতার সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। তারা দাবি করেন, অস্থায়ী সরকারের মূল কাজ হল নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আর কোনো নীতি‑সংক্রান্ত অবস্থান গ্রহণ করা তার ভূমিকা থেকে বিচ্যুতি হতে পারে।
এই উদ্বেগের পরেও, সরকারী পক্ষের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, অস্থায়ী সরকারের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের আলোকে এই সমালোচনার ভিত্তি দুর্বল। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দীর্ঘস্থায়ী শাসনতান্ত্রিক সংকট এবং জনসাধারণের অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই অস্থায়ী সরকারকে শুধুমাত্র নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রফেসর ইউনূসের মতে, গত এক বছর অর্ধেক সময়ে তিনি রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিস্তৃত পরামর্শের মাধ্যমে একটি সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেন। এই প্রস্তাবনা এখন জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংস্কার প্যাকেজের পক্ষে না দাঁড়ানো মানে অস্থায়ী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে বোঝা।
সমালোচকরা যে, অস্থায়ী সরকার গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের মুহূর্তে নিজেকে সংস্কার থেকে দূরে রাখবে, তা বাস্তবিক দৃষ্টিতে সম্ভব নয়। সরকারী ব্যাখ্যা অনুসারে, অস্থায়ী প্রশাসন তার ম্যান্ডেটের অংশ হিসেবে সংস্কারকে অগ্রগতি হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং তা থেকে বিচ্যুতি তার কার্যকারিতা ক্ষুণ্ণ করবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাবের দিক থেকে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সমর্থন সরকারকে সংস্কারকে আইনগত ভিত্তি প্রদান করবে এবং নির্বাচনের পূর্বে একটি পরিষ্কার নীতি কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যদি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জিত হয়, তবে জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন দ্রুততর হবে এবং তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াতে সহায়তা করবে। অন্যদিকে, ‘না’ ভোটের সম্ভাবনা থাকলে সরকারকে পুনরায় সংস্কার প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করতে হবে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ‘হ্যাঁ’ সমর্থনকে দেশের বর্তমান শাসন সংকটের সমাধান ও গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের একটি কৌশল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সমালোচকরা যদিও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারী ব্যাখ্যা অনুযায়ী এই সমর্থন ম্যান্ডেটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। গণভোটের ফলাফলই শেষ পর্যন্ত এই নীতির বাস্তবিক প্রভাব নির্ধারণ করবে।



