20 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিরুশ দূত ইউরোপকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড শুল্কে সতর্ক করেছেন

রুশ দূত ইউরোপকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড শুল্কে সতর্ক করেছেন

শুক্রবার রাত ১৭ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ রাশিয়ার উচ্চপদস্থ কূটনীতিক দিমিত্রি ভি. ইউরোপীয় শীর্ষ নেতাদের একটি সতর্কবার্তা পাঠান। তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপের দেশগুলোকে ট্রাম্পকে “বাবা” বলে সম্বোধন করা এবং তার শুল্ক নীতি নিয়ে উস্কানি দেওয়া উচিত নয়, কারণ এটি গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সেনা মোতায়েনের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে কাজ করছে।

দিমিত্রি উল্লেখ করেন, ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে পূর্বে ট্রাম্পকে “ড্যাডি” বা “বাবা” বলে সম্বোধন করার পর এই মন্তব্যটি করা হয়। তিনি এটিকে ট্রাম্পের নীতি সমালোচনার একটি সূক্ষ্ম রূপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

দিমিত্রি আরও জানান, যদি ইউরোপীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে ১ জুন থেকে শুল্কের হার ২৫ শতাংশে বাড়িয়ে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড সম্পূর্ণভাবে অধিগ্রহণের ইচ্ছা রয়েছে।

ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছেন, যা তিনি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।

ট্রাম্পের সামাজিক নেটওয়ার্ক “ট্রুথ সোশ্যাল” এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের ক্রয় চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপীয় দেশগুলোকে এই আর্থিক চাপ সহ্য করতে হবে। তিনি শুল্ককে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে তোলেন।

দিমিত্রি ইউরোপীয় দেশগুলোর এই পদক্ষেপকে “বিপজ্জনক খেলা” বলে অভিহিত করেন। তিনি যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নিলে ইউরোপকে উচ্চমূল্য দিতে হবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে রাশিয়া ইউরোপ-আমেরিকান সম্পর্কের ফাটলকে বাড়িয়ে তোলার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা দিমিত্রির বক্তব্যকে ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন। তারা উল্লেখ করেন, রাশিয়ার এই ধরনের মন্তব্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করতে পারে।

গ্রিনল্যান্ড একটি স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে এটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়াতে চায়।

ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে এই শুল্ক নীতি নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কিছু দেশ শুল্কের প্রভাব কমাতে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকে অস্বীকার করে গ্রিনল্যান্ডের স্বায়ত্তশাসন রক্ষার পক্ষে সুর তুলেছে।

ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং রাশিয়ার মন্তব্যের ফলে ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষই পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, তবে শুল্কের বাস্তবায়ন ও তার প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকবে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক চাপের মুখে ইউরোপীয় দেশগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা আন্তর্জাতিক নীতি ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিশেষত আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করে, ভবিষ্যতে আরও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সারসংক্ষেপে, রাশিয়ার দূত দিমিত্রি ইউরোপীয় নেতাদের ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে সতর্ক করেছেন, আর ট্রাম্পের নিজস্ব বার্তা স্পষ্ট যে গ্রিনল্যান্ডের অধিগ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত শুল্ক বজায় থাকবে। এই দ্বিমুখী চাপ ইউরোপ-আমেরিকা সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments