বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত একটি মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন, যদি দলটি জনগণের সমর্থন পেয়ে সরকার গঠন করে, তবে জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে।
জুলাই মাসে ঘটিত রাজনৈতিক অশান্তিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আর শতাধিক পরিবার শোক ও কষ্টের মধ্যে আছে। শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সহায়তা না পাওয়ায় এই উদ্যোগের দাবি বাড়ছে।
বিএনপি সরকার ২০০১-২০০৬ সালে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, আহত ও তাদের পরিবারকে কল্যাণমূলক সেবা প্রদান করত। তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, পূর্বের সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আর্থিক সহায়তা দিত।
তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন বিভাগটি বিশেষভাবে জুলাই ২৪‑ইউনিয়নের শহীদ, আহত ও যোদ্ধা পরিবারকে লক্ষ্য করবে। তিনি বলেন, “যারা মারা গেছেন তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, তবে যারা বেঁচে আছেন তাদের কষ্ট কমাতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।” নতুন বিভাগটির কাজ হবে পরিবারগুলোর আর্থিক, স্বাস্থ্য ও সামাজিক চাহিদা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদান করা।
এই মন্তব্যটি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভায় করা হয়, যেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিতদের সঙ্গে তারেকের কথায় একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে ২৪‑ইউনিয়নের যোদ্ধাদের তুলনা করা হয়; তিনি জোর দিয়ে বলেন, “২৪‑ইউনিয়নের যোদ্ধাদেরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য করা উচিত, কারণ তারা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে।”
বিএনপি এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করার পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। দলটি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী দল (এনডিএ) ও অন্যান্য মিত্রদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করছে, যাতে আগামী নির্বাচনে সরকার গঠন সম্ভব হয়। নতুন বিভাগ গঠন হলে দলটি শহীদ পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করে ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জন করতে চায়।
অন্যদিকে, সরকার ও বিরোধী দলগুলো এখনও এই প্রস্তাবের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই ধরনের কল্যাণমূলক পদক্ষেপগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হবে।
তবে, শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য ত্বরিত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ বহু পরিবার ইতিমধ্যে আর্থিক সংকটে ভুগছে। নতুন বিভাগ গঠন হলে, পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ভাতা ও পেনশন সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
বিএনপি এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করে দেখাতে চায়, দলটি জনগণের কষ্টের প্রতি সংবেদনশীল এবং শহীদ পরিবারের কল্যাণে বাস্তবিক পদক্ষেপ নিতে ইচ্ছুক। তবে বাস্তবে এই বিভাগ গঠন ও কার্যকরী করা কতটা দ্রুত হবে, তা নির্ভর করবে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান ও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ওপর।
যদি দলটি সরকার গঠন করতে সফল হয়, তবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন বিভাগটি আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠা হয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে বলে আশা করা যায়। অন্যদিকে, সরকার গঠন না হলে এই পরিকল্পনা কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে রয়ে যাবে।
বিএনপি’র এই ঘোষণার ফলে শহীদ পরিবারের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট, প্রশাসনিক কাঠামো ও আইনগত অনুমোদন এখনও স্পষ্ট নয়। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি কীভাবে অগ্রসর হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকবে।



