গতকাল সন্ধ্যায় ঢাকার যাত্রাবাড়ি এলাকায় ধর্মীয় সংহতি ও আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্যে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই সভা যাত্রাবাড়ী থানা সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে চন্দন কোঠা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ঢাকা-৫ সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নবীউল্লাহ নবী উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল দেশের সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং কোনো নাগরিককে বঞ্চিত বোধ না করানো।
নবীউল্লাহ নবী জোর দিয়ে বললেন, “বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ।” তিনি উল্লেখ করেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি সমাজের মূলধারার বাইরে নিজেকে অনুভব করে, তা আর হওয়া উচিত নয়। তার কথায় ধর্মীয় বৈষম্য দূর করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান ছিল।
প্রার্থীর মতে, ধর্মীয় সম্প্রীতি দেশের হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং তা রক্ষার জন্য সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা চাই, বাংলাদেশে কেউ আর বৈষম্যের শিকার না হয়, সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করুক।” এ কথার মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় সংহতি বজায় রাখার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে একত্রে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কৃষ্ণ রাজবংশীর সভাপতিত্বে এবং চন্দ্র বাসি রায়ের সঞ্চালনায় আলোচনাটি পরিচালিত হয়।
বৈধিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এই ধরনের সমাবেশ নির্বাচনী সময়ে ধর্মীয় সংহতি জোরদার করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। যদিও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব এই সভায় দেখা যায়নি, তবু স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন অর্জনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করা হয়েছে।
সভায় আলোচনা করা হয় কীভাবে ধর্মীয় সংহতি বজায় রেখে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালানো যায়। অংশগ্রহণকারীরা একমত হন যে, ধর্মীয় বৈষম্য দূর করা এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
নবীউল্লাহ নবীর বক্তব্যে উল্লেখিত বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য প্রাসঙ্গিক প্রভাব ফেলতে পারে। ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা ভোটারদের মধ্যে বিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং ভোটের প্রবণতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সভা স্থানীয় মিডিয়ার নজরে আসে এবং সামাজিক মিডিয়ায়ও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক নেটওয়ার্কে সমাবেশের মূল বার্তা শেয়ার করে, যা ধর্মীয় সংহতি ও সমতা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
অধিকন্তু, সমাবেশের আয়োজনকারী সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে এ ধরনের ইভেন্টের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তারা উল্লেখ করে, ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক সমন্বয় বজায় রাখতে নিয়মিত সভা, কর্মশালা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, যাত্রাবাড়ীর এই ধর্মীয় ঐক্য সভা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সংহতি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্বাচনী প্রস্তুতির একটি অংশ হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতে ধর্মীয় সংহতি ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি কীভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



