19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশেরপুরে বাবার বিরুদ্ধে দুই কন্যার হত্যার অভিযোগ, এক মৃত আর এক গুরুতর...

শেরপুরে বাবার বিরুদ্ধে দুই কন্যার হত্যার অভিযোগ, এক মৃত আর এক গুরুতর আহত

শেরপুরের নকলা উপজেলায় ১৮ জানুয়ারি ভোরে এক পরিবারে দু’টি শিশুর ওপর হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। ৩২ বছর বয়সী বাবু মিয়া তার বড় কন্যা মরিয়ম (৬)কে মৃত অবস্থায় এবং ছোট কন্যা মিম (৪)কে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল নকলা উপজেলার চর অষ্টধর ইউনিয়নের চর বসন্তী (মধ্যপাড়া) এলাকা। স্থানীয় পুলিশ ও স্বজনের জানামতে, প্রথমে সন্দেহ করা হচ্ছে বাবু মিয়া তার কন্যাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে মরিয়মকে হত্যা করেছেন এবং মিমকে হত্যা করার চেষ্টা করেছেন।

বাবু মিয়া রবি মিয়ার পুত্র, তার স্ত্রী হলেন হাসিনা বেগম, যাঁর সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার বাসিন্দা হাসিনা বেগমের বিয়ে হয়। দম্পতির দু’টি কন্যা আছে; বড় কন্যা মরিয়ম এবং ছোট কন্যা মিম। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক আচরণে ভুগছিল, যা পরিবারে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল।

গত বুধবার, হাসিনা বেগম দুই সন্তান নিয়ে শালখাতে বাবুর বাড়িতে গিয়ে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। একই রাতে বাবু মিয়া শাশুড়ির কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা দাবি করেন, কিন্তু টাকা না পেয়ে রাগে গিয়ে স্ত্রীকে ছেড়ে দুই কন্যাকে নিয়ে ঢাকায় রওনা হন। পরে খিলগাঁওয়ে বাবু মিয়া ও তার বাবার মধ্যে তর্ক হয়, যা বাড়িতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়। শনিবার, রবি মিয়া, বাবু মিয়া, এবং দুই নাতনিকে নিয়ে নকলার চর বসন্তীর বাড়িতে ফিরে আসেন; এই সময়ে হাসিনা বেগম শালখাতে ছিলেন।

রাত ১০টার দিকে বাবু মিয়া ও তার পিতার মধ্যে আবার তর্ক হয়। মধ্যরাতে পারিবারিক সদস্য পারুলের কথায়, বাবু মিয়া কক্ষের ভিতরে চিৎকার ও জিকিরের আওয়াজ শোনানো শুরু করেন, যা কিশোরী কন্যাদের দিকে নির্দেশিত বলে ধারণা করা হয়। ভোরের দিকে স্বজনরা সন্দেহের কারণে ঘরে প্রবেশ করে এবং মরিয়মকে মৃত অবস্থায় এবং মিমকে গুরুতর আহত ও আতঙ্কিত অবস্থায় দেখতে পান। ঘরের দরজা তালা দিয়ে বাবু মিয়াকে আটক রাখা হয় এবং পরে পুলিশকে জানানো হয়।

রবিবার সকালে মিমকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের মতে, মিমের অবস্থার গুরুতরতা এখনও উচ্চ এবং তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। মৃত কন্যা মরিয়মের দেহের কোনো আঘাতের বিশদ প্রকাশ করা হয়নি, তবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাবু মিয়াকে স্থানীয় পুলিশ গৃহবন্দি করে রাখে এবং তদন্তের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

নকলা উপজেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন আক্তার ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটি ফৌজদারি দায়ের আওতায় রয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী সংগ্রহ ও ফরেনসিক পরীক্ষা সহ সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফল জানার পরই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাবু মিয়ার আচরণ সাম্প্রতিক সময়ে অস্থির ও অনিয়মিত ছিল। পারিবারিক সমস্যার পাশাপাশি প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্কও তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। কিছু লোকের মতে, বাবু মিয়া অতিরিক্ত মদ্যপান ও মানসিক চাপের শিকার ছিলেন, তবে এ বিষয়ে কোনো সরকারি নিশ্চিতকরণ নেই।

আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, মামলাটি গৃহহত্যা ও গৃহআঘাতের অধীনে দায়ের হবে। প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে বাবু মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড বা আজীবন কারাদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে পুলিশ মামলাটি সম্পূর্ণভাবে তদন্ত করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাক্ষীর বিবৃতি নেয়া হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments