ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি ১৮ জানুয়ারি ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁয়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বললেন। কথোপকথনের মূল বিষয় ছিল সিরিয়ার দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নতুন সংবিধানে কুর্দি জনগণের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজন। দুই নেতা দু’জনই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
বারজানি ফোনে জোর দিয়ে বলেছিলেন যে সিরিয়ার নতুন সংবিধানে কুর্দি সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন যে সংবিধানিক কাঠামোতে কুর্দিদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি অর্জন কঠিন হবে। তার মতে, এই বিষয়টি সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সম্প্রতি সংবিধানে ব্যাপক সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। নতুন সংশোধনীতে কুর্দি জনগণের ভাষা, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের অধিকারকে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে এবং অঞ্চলীয় সংঘাতের সমাধানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বারজানি পূর্বে এই সংস্কারকে স্বাগত জানিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে সিরিয়ার সংবিধানিক পরিবর্তন কুর্দি জনগণের স্বার্থ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বাস্তবায়ন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট আইনগত গ্যারান্টি ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁও সিরিয়ার উত্তেজনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রিত হয়ে সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার এবং কুর্দি সম্প্রদায়ের অধিকারকে সম্মান করার পরামর্শ দিয়েছেন। ম্যাক্রোঁয়ের মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ফ্রান্সের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা একটি কৌশলগত অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন যে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে কুর্দি জনগণের ভূমিকা বাড়ছে। সংবিধানিক সংস্কার কুর্দি দলগুলোর রাজনৈতিক বৈধতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মূল কারণগুলোকে কমাতে সহায়তা করবে। তবে তারা সতর্ক করছেন যে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন।
কুর্দি নেতৃত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, সিরিয়ার সংবিধানে কুর্দি অধিকার সংযোজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক জয়। বারজানি এই পরিবর্তনকে কুর্দি জনগণের জন্য একটি নতুন আশার আলো হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন যে কুর্দি সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত থাকা দরকার।
ম্যাক্রোঁয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি একটি তীব্র উদ্বেগের বিষয়। তিনি ফ্রান্সের কূটনৈতিক নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে সিরিয়ার রাজনৈতিক সংলাপকে ত্বরান্বিত করার এবং সংঘাতের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তার মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে ফ্রান্সের ভূমিকা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বরং মানবাধিকার রক্ষায়ও কেন্দ্রীয়।
অঞ্চলীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ভবিষ্যতে সিরিয়ার সংবিধানিক সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন। কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, কুর্দি অধিকার সংযোজনের মাধ্যমে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিভাজন হ্রাস পাবে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করছেন যে সংবিধানিক পরিবর্তন সত্ত্বেও বাস্তবায়ন ধীর হলে নতুন বিরোধের জন্ম নিতে পারে।
বারজানি এবং ম্যাক্রোঁয়ের এই ফোনালাপের মাধ্যমে কুর্দি-সিরিয়া বিষয়টি আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। দু’নেতা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে সিরিয়ার রাজনৈতিক পুনর্গঠনকে সমর্থন করার এবং কুর্দি জনগণের অধিকারকে সংবিধানে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। এই সমন্বয় ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে।
পরবর্তী ধাপে সিরিয়ার সরকারকে সংবিধানিক সংস্কারকে কার্যকর করার জন্য আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে এবং কুর্দি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ইউরোপীয় দেশগুলো, এই প্রক্রিয়ায় আর্থিক ও কূটনৈতিক সহায়তা প্রদান করতে পারে। শেষ পর্যন্ত, কুর্দি-সিরিয়া সম্পর্কের স্থিতিশীলতা এবং অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখতে সংবিধানিক গ্যারান্টি এবং বাস্তবায়ন উভয়ই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।



