অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রবিবার ঢাকা শহরের সিরডাপ মিলনায়তে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজন করা ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে উপস্থিত হন। তিনি বিচার সংস্কার প্রক্রিয়া ও তার অগ্রগতির ওপর বিশদ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, সংস্কার নিয়ে কিছু মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মন্তব্যের প্রবণতা রয়েছে, যা প্রায়শই দৃষ্টিকোণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে করা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো সংস্কার না হওয়া স্বীকার করা সঠিক নয়। তিনি প্রত্যাশা যদি দশটি লক্ষ্য থাকে, তবে অন্তত চারটি অর্জিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
পুলিশ সংস্কার সংক্রান্ত তার মন্তব্যে তিনি জানান, পরিকল্পনা অনুযায়ী সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কার প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে।
সংলাপের সময় তিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই দিকের সব প্রয়োজনীয় আইন ইতিমধ্যে পাশ হয়েছে এবং রুল অব ল প্রতিষ্ঠার জন্য আরও পাঁচ থেকে দশ বছর সময় লাগবে।
আসিফ নজরুলের মতে, উচ্চ আদালতে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চ আদালতে সংস্কার না হলে পুরো বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা কঠিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উচ্চ আদালত থেকে সংস্কার শুরু হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ‘জয় বাংলা’ ও ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ চিৎকার করে দশ বছর কেটে যাওয়া মানে বিচারক হওয়া নয়। বিচারিক মানদণ্ড ও পেশাদারিত্বের উন্নয়ন ছাড়া বিচারিক স্বাধীনতা অর্জন করা সম্ভব নয়।
আসিফ নজরুলের বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচিত সরকার যদি এই সংস্কারমূলক ধারাকে বজায় রাখে, তবে জনগণ দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবে। তিনি ভবিষ্যতে সংস্কার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
সংলাপের অংশগ্রহণকারীরা তার মন্তব্যের পর্যালোচনা করে দেখেন, বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় কিছু অগ্রগতি সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে এখনও বাধা রয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, আইনগত কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে ত্বরান্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন।
আসিফ নজরুলের মতে, রুল অব ল প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া, যার জন্য ধারাবাহিক রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও সামাজিক সমর্থন অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে সময়সাপেক্ষ হলেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে।
বিচার সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক রঙে না দেখে, বাস্তবিক প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা উচিত। তিনি এ বিষয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল বলে উল্লেখ করেন।
সংলাপের শেষে তিনি উপস্থিত সকলকে আহ্বান জানান, বিচার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, যাতে দেশের আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় ও স্বতন্ত্র বিচার ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
এই নীতি সংলাপটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার বিষয়ক বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ উপস্থাপন করে, যা দেশের আইনগত পরিবেশকে উন্নত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



