ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তে রবিবার সকালেই ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপের আয়োজন হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ‘মব’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই শব্দটি ব্যবহার করলে বিপ্লবের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হয় এবং তাই ভাষা নির্বাচনে বিশেষ মনোযোগ দরকার।
সংলাপটি সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজন করে, এবং এতে রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিচার বিভাগের স্বতন্ত্রতা রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা, তবে ‘মব’ শব্দের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তীব্র বিতর্কও উত্থাপিত হয়।
তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মব’ শব্দের ব্যবহার মানসিকভাবে বিপ্লবকে চ্যালেঞ্জ করার একটি প্রবণতা প্রকাশ করে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শব্দটি ব্যবহার করার আগে তার প্রভাব ও অর্থ সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করা উচিত, নইলে তা সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
তাঁর মন্তব্যের পর সিপিবি (কমিউনিস্ট পার্টি) এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও বাসদের (সমাজতান্ত্রিক দল) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ এই বক্তব্যকে ‘থ্রেট’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। উভয়েই তাজুলের সতর্কতা প্রকাশকে রাজনৈতিক দমনমূলক রূপে দেখেন এবং ভাষা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে সীমাবদ্ধতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করীম আব্বাসি সংলাপের সূচনা বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিচার বিভাগের বদলে ‘মবোক্রেসি’র রুল দেখা যাচ্ছে। তিনি সামাজিক মিডিয়ায় চলমান ট্রায়ালকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, যদি জনগণ আইনকে নিজের হাতে নিতে চায় এবং অপরাধীদের শাস্তি নিজে দিতে চায়, তবে কোনো প্রতীকী ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।
আওয়ামী লীগ মহাসচিব শামীল হায়দার পাটোয়ারী আইনের শাসন সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করেন, তিনি বলেন, বিপ্লবের আগে‑পরে যেকোনো সময় অন্যায়কে অনুমোদন করলে তা অবশেষে ফিরে আসবে। তিনি ‘মব’কে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও দেশের স্বার্থকে ক্ষুন্ন করার হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
তাজুল ইসলাম আরও ব্যাখ্যা করেন, গণভবনের পতনের সময় যদি কোনো গোষ্ঠী রাস্তায় লুটপাট করে বা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা চালায়, তবে দুটোকে একসাথে বিচার করা যায় না। তিনি জোর দেন, ‘মব’ শব্দটি ব্যবহার করার আগে তার প্রয়োগের পরিসর ও প্রভাব সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি, যাতে বিপ্লবের অর্জনকে ক্ষুন্ন না করা যায়।
সংলাপের শেষ পর্যায়ে সকল অংশগ্রহণকারী একমত হন যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ‘মব’ শব্দের অপব্যবহার রোধ দুটোই দেশের আইনি কাঠামোর জন্য অপরিহার্য। তাজুলের সতর্কতা এবং বিরোধী দলের তীব্র প্রতিক্রিয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ভাষা ও নীতি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে, বিশেষ করে নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে এই বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পাবে।



