কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নারী টি‑টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে বাংলাদেশি টিগ্রেসরা যুক্তরাষ্ট্রকে ২১ রানে পরাজিত করেছে। নিগার সুলতানা জ্যোতির অধীনে দলটি ২০ ওভারে ১৫৯ রান সংগ্রহ করে ৫ উইকেট হারায়, আর প্রতিপক্ষের ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৩৮ রান করে থামিয়ে দেয়া হয়।
বাংলাদেশের টস হারা সত্ত্বেও ব্যাটিংয়ে তৎপরতা দেখিয়ে ২০ ওভারে ১৫৯/৫ স্কোর তৈরি করে। শীর্ষে শারমিন আক্তার সুপ্তা ৩৯ বলে ৬৩ রান করেন, যার মধ্যে আটটি চতুর্থাংশ ও এক ছক্কা রয়েছে। তার পাশে সোবহানা মোস্তারী ৩২ বলে ২৯ রান যোগ করেন, যা দলের মোট স্কোরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর ব্যাটিংয়ে চেতনা পগ্যাদিয়ালা ও দিশা ধিংরা ৩৫ রান করে ৪২ বলের একটি স্থিতিশীল জুটি গড়ে তোলেন। তবে দিশা ২৩ রান করে আউট হয়ে রাবেয়া খান জুটি ভেঙে দেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র, যা তাদের স্কোরকে দ্রুত নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়।
ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ৫৭ রানে ১ উইকেটের অবস্থান থেকে দ্রুত ৭৯ রানে ৬ উইকেটে নেমে আসে। শেষের দিকে রিতু সিং ১৩ রান করে ৩৩ বলে ঝোড়ো আউট হয়, ফলে দলটি আরও বড় পার্থক্যে আটকে যায়।
বাংলাদেশের স্পিনার নাহিদা আক্তার ৪ উইকেটের সঙ্গে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। বিশেষ করে ১৮তম ওভারে তিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাটিংকে সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দেয়। তার পারফরম্যান্স দলকে জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
এই জয়টি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য একটি উজ্জ্বল সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাছাইপর্বে মোট দশটি দল দুইটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতিযোগিতা করছে, এবং প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ তিনটি দল সুপার সিক্সে অগ্রসর হবে। সুপার সিক্সে আরেকটি গ্রুপের শীর্ষ তিন দলকে মুখোমুখি হতে হবে, এবং সেখানে শীর্ষ চারটি দল জুনে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত মূল বিশ্বকাপের মূল পর্যায়ে অংশগ্রহণের অধিকার পাবে।
আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে প্রবেশের সুযোগ পাবে, আর বাকি দলগুলোকে বাছাইপর্বের মাধ্যমে স্থান নিশ্চিত করতে হবে। গ্রুপ ‘এ’ তে বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্ভুক্ত।
বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচটি ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত, যেখানে তারা পাপুয়া নিউগিনির মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচটি দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সুপার সিক্সে অগ্রসর হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ক্যাপ্টেন নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে দলটি কৌশলগতভাবে খেলেছে, যেখানে ব্যাটিং ও বোলিং উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। বিশেষ করে বোলিংয়ে স্পিনারদের কার্যকর ব্যবহার এবং ব্যাটিংয়ে মাঝারি ক্রমে দ্রুত স্কোর তৈরি করা দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছে।
বাছাইপর্বের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ একবার হারে দলটি সরাসরি বিশ্বকাপের পথে থেকে বাদ পড়ে। তাই বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা প্রতিটি ওভারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে খেলছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ পারফরম্যান্সের জন্য আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দেয়।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল যুক্তরাষ্ট্রকে ২১ রানে পরাজিত করে বাছাইপর্বে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অগ্রসর হয়েছে। শারমিন আক্তার সুপ্তার শীর্ষ স্কোর, নাহিদা আক্তারের চমকপ্রদ বোলিং এবং দলের সমন্বিত পারফরম্যান্স এই জয়ের মূল কারণ। পরবর্তী ম্যাচে পাপুয়া নিউগিনির বিরুদ্ধে দলটি কীভাবে পারফর্ম করবে, তা বিশ্বকাপের স্বপ্নকে আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।



