রবিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সমাপনী অনুষ্ঠানের পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপারদের (এএসপি) উদ্দেশ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার প্রতিনিধির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা, খাবার বা অন্য কোনো উপকার গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবে এবং তাদের কাজের মূল ভিত্তি হবে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি পুলিশ বাহিনী এই নীতিমালা মেনে চলে তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে।
জনসেবার দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি পুলিশ বাহিনী চায় যা ভয় সৃষ্টি না করে, বরং সেবা প্রদান করে, সম্মানজনক ও ভদ্র আচরণে কাজ করে। তিনি অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেন, দুর্নীতি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু এবং এটি শুধু অর্থনীতিকেই নয়, দেশের সংস্থাগুলিকেও ক্ষয় করে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এএসপি-দের উদ্দেশ্যে তিনি সততা, নৈতিকতা ও বিবেককে তাদের পরিচয়ের মূল স্তম্ভ হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাহস কেবল বিপদের মুখে দাঁড়ানো নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোজা কথা বলা, জুলুমের বিরোধিতা করা এবং দুর্বলদের পক্ষে কাজ করা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম এবং অতিরিক্ত আইজিপি তওফিক মাহবুব চৌধুরী, যাঁরা উপদেষ্টার বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে বলেন যে নির্বাচনী সময়ে পুলিশকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে হবে।
কুচকাওয়াজে মোট ৮৭ জন ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী, পাশাপাশি ২৮তম, ৩৫তম, ৩৬তম, ৩৭তম ও ৪০তম ব্যাচের কিছু প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন, যা নতুন প্রজন্মের পুলিশকে নির্বাচনী দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্যের প্রতিফলন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, অতীতের নির্বাচনে পুলিশকে কখনো কখনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মুখে দেখা গেছে; তাই তারা উপদেষ্টার এই স্পষ্ট নির্দেশনা ও কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা তদুপরি তত্ত্বাবধান সংস্থার কার্যকরী নজরদারির প্রয়োজনীয়তাও জোর দিয়ে বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্যের ভিত্তিতে যদি পুরো পুলিশ বাহিনী এই নীতি মেনে চলে, তবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। নির্বাচনী কমিশন ও মানবাধিকার সংস্থা এই বিষয়ে নিবিড় নজর রাখবে এবং কোনো লঙ্ঘন ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
অবশেষে, উপদেষ্টা জোর দিয়ে বললেন যে পুলিশকে দেশের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রক্ষক হিসেবে কাজ করতে হবে, আর কোনো ধরনের স্বার্থপরতা বা অবৈধ আদেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই বার্তা নতুন এএসপি-দের জন্য একটি নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সাফল্যের ভিত্তি গড়ে তুলবে।



