মিসর, সুদান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নীল নদের পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে মধ্যস্থতার প্রস্তাবের জন্য একে অপরকে স্বাগত জানিয়েছেন। শনিবার সামাজিক মিডিয়ায় প্রকাশিত বিবৃতিতে উভয় দেশই ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়ে ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপটি ইথিওপিয়ার গ্রান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম (GERD) সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল‑সিসি নীল নদকে দেশের জীবনের রক্তনালীরূপে উল্লেখ করে ট্রাম্পের আগ্রহের প্রশংসা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা অনুসরণ করে কোনো পক্ষের ক্ষতি না করে সমষ্টিগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য নীল অববাহিকার দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক ও আন্তরিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সিসি আরও জানিয়েছেন যে তিনি ট্রাম্পকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন, যেখানে নীল নদ ইস্যুতে তার মনোযোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে এবং মিসরের পানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সমর্থন এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা স্পষ্ট করা হয়েছে।
সুদানের জাতিসংঘ সমর্থিত সামরিক বাহিনীর নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল‑বুরহানও একই প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল এমন টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করা, যা সব পক্ষের অধিকার রক্ষা করবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করবে।
এর আগে শুক্রবার ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র নীল নদের দীর্ঘদিনের বিরোধে মিসর ও ইথিওপিয়ার মধ্যে পুনরায় মধ্যস্থতা শুরু করতে প্রস্তুত। তার এই মন্তব্যের পর থেকে মিসর ও সুদান উভয়ই যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা স্বীকার করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।
নীল নদ আফ্রিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলধারা, যার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৬৫০ কিলোমিটার এবং এটি ১১টি দেশ—বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, ডেমোক্রেটিক কঙ্গো, কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান এবং মিসর—দ্বারা ভাগাভাগি করা হয়। এই দেশগুলোই নদীর পানি ব্যবহার, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষি চাষের জন্য নির্ভরশীল।
ইথিওপিয়া গত বছর ৯ সেপ্টেম্বর GERD আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে, যা নির্মাণে প্রায় চৌদ্দ বছর লেগেছিল। তবে বাঁধের পানি ভরাট ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে মিসর ও সুদানের সঙ্গে ইথিওপিয়ার মতবিরোধ অব্যাহত রয়েছে। দু’দেশই পানির প্রবাহের হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদনে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আর ইথিওপিয়া নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য ড্যামের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করতে চায়।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, ট্রাম্পের মধ্যস্থতা প্রস্তাব নীল নদের ভবিষ্যৎ আলোচনার ধারা পরিবর্তন করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ভূমিকা যদি সফল হয়, তবে ইথিওপিয়া, মিসর এবং সুদানকে একত্রে টেবিলে বসিয়ে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সমঝোতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে। পরবর্তী ধাপে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সূচনা, ড্যামের পূর্ণ ভরাটের সময়সূচি নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী পানি ভাগাভাগি চুক্তি রূপায়ণ করা হতে পারে।
এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ফলাফল কেবল নীল নদের পানি বণ্টন নয়, বরং আফ্রিকায় জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলবে। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন এই আলোচনার সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের দিকে নিবদ্ধ।



