বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (NBR) একটি চিঠির মাধ্যমে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতোতে বন্ডেড গুদাম স্কিমের অধীনে আরোপিত শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য দেশীয় বস্ত্র কারখানার প্রতিযোগিতা রক্ষা করা এবং সস্তা আমদানি সুতোয়ের প্রভাব কমানো।
বন্ড সুবিধা মূলত আমদানিকৃত সুতোকে শুল্কমুক্ত করে গুদামে সংরক্ষণ করার অনুমতি দেয়, যা পরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যায়। মন্ত্রণালয় এই সুবিধা বাতিল করলে সুতোয়ের মোট খরচ বাড়বে এবং দেশীয় উৎপাদনের লাভজনকতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
বস্ত্র শিল্পে ‘কাউন্ট’ শব্দটি সুতোয়ের পুরুত্বের মাপ নির্দেশ করে; ১০‑৩০ কাউন্টের সুতো মাঝারি থেকে মোটা ধরণের এবং প্রধানত নিটওয়্যার উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই পরিসরের সুতো দেশের বস্ত্র উৎপাদনের বড় অংশ গঠন করে, বিশেষ করে সুতোর গুণমান ও দামের সংবেদনশীল বাজারে।
ডিসেম্বর ২৯ তারিখে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) বাণিজ্য ও শুল্ক কমিশনকে সুতোতে বন্ড সুবিধা স্থগিত অথবা ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের আহ্বান জানায়। অ্যাসোসিয়েশন উল্লেখ করে যে, এই ধরণের সুতো দেশের বস্ত্র উৎপাদনের ভিত্তি এবং এর ওপর কোনো বিধিনিষেধ সরাসরি শিল্পের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
BTMA আরও জানায় যে, প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগযুক্ত প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরের কিছু কারখানা সস্তা ভারতীয় সুতোয়ের প্রবেশের ফলে বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই কারখানাগুলি দেশের রপ্তানি সক্ষমতা ও কর্মসংস্থান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই তাদের সঙ্কট সমাধান করা জরুরি।
অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ৩০ কাউন্টের সুতোকে কিলোগ্রামে ২.৫০ থেকে ২.৬০ ডলার দরে বিক্রি করছে, যদিও একই সুতো উৎপাদনের প্রকৃত খরচ ২.৯০ থেকে ২.৯৩ ডলার। এই মূল্য পার্থক্য দেশীয় উৎপাদনকারীদের মার্জিনকে চাপে ফেলছে এবং বাজারে অপ্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় ফেলছে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা স্থগিত হলে আমদানি মূল্যের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবে দেশীয় সুতোয়ের চাহিদা বাড়াবে। তবে একই সঙ্গে উচ্চতর দামের ফলে কিছু উৎপাদনকারী উচ্চ কাউন্টের সুতোতে রূপান্তরিত হতে পারে, যা গুণমান ও পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াবে। বাজারে সাময়িক মূল্য উত্থান দেখা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় উৎপাদনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হবে।
NBR-কে এখন এই চিঠির ভিত্তিতে নীতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যদি বন্ড সুবিধা স্থগিত করা হয়, তবে আমদানি পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং শুল্ক রাজস্ব বাড়বে। অন্যদিকে, শুল্ক আরোপের বিকল্পও বিবেচনা করা হতে পারে, যা সরাসরি আমদানি দামের ওপর প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, বন্ড সুবিধা বাতিলের ফলে দেশীয় বস্ত্র শিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা পুনরুদ্ধার হতে পারে এবং কর্মসংস্থান সংরক্ষিত হবে। তবে নীতি পরিবর্তনের সময়সীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া যদি ধীরগতি হয়, তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে ঘাটতি ও মূল্য অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সারসংক্ষেপে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপটি দেশীয় বস্ত্র খাতের সুরক্ষা ও টেকসই বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। NBR-র সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী কয়েক মাসে সুতোয়ের আমদানি প্রবাহ, শুল্ক রাজস্ব এবং শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা নির্ধারিত হবে।



