খুলনা-১ আসনের নির্বাচনী প্রচার এখন তীব্রভাবে চলমান, যেখানে ভোটারদের মনোভাব গঠন করতে বিভিন্ন দল সক্রিয়। রামপাল‑মোংলা এলাকার রাস্তায় একটি ভ্যানের মধ্যে যুবক ও চালক ভোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। ভোটের ফলাফল এখনও অজানা, কারণ নির্বাচন এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
এই আসনটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা জেলার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা দুই উপজেলা অন্তর্ভুক্ত করে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই উপজেলার ভোটারগণ বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নজরে এসেছে, বিশেষ করে জামায়াতের হিন্দু ব্যবসায়ী প্রার্থী এবং বিএনপি ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিচ্ছে।
ভ্যানের মধ্যে উঠা এক যুবক জানায় যে তিনি একটি এনজিওতে কর্মরত, যেখানে গ্রামীণ পরিবারকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করা হয়। তিনি ভোটের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন, তবে ভ্যান চালক জানান যে এখনও ভোটের ফলাফল নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
চালক ভোটারদের মনকে বুঝতে কঠিন বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “মানুষের মনকে পড়া সহজ নয়।” তিনি এই কথা দিয়ে ভোটারদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক প্রবণতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পেয়ে থাকা প্রকাশ করেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে মূল বিষয় হল, ভোটাররা কোন দলের নীতি ও প্রোগ্রামকে বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করবে। বিএনপি, জামায়াত এবং কমিউনিস্ট পার্টি প্রত্যেকে নিজেদের প্রচারমূলক বার্তা তুলে ধরছে, যেখানে জামায়াতের হিন্দু ব্যবসায়ী প্রার্থী স্থানীয় ব্যবসায়িক সংযোগের মাধ্যমে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে।
অঞ্চলের রাস্তাগুলোর অবস্থা এখনও খারাপ, বিশেষ করে দাকোপের কিছু অংশে গর্ত ও পাথরের গুঁড়ো দেখা যায়। ২০১৭ সালে দাকোপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে রাস্তায় ব্যবহৃত ইট চুরি করে বিক্রি করার অভিযোগে সংবাদে প্রকাশিত করা হয়েছিল, যা স্থানীয় অবকাঠামোর সমস্যাকে তুলে ধরেছে।
ভ্যানটি খেয়াঘাটে থেমে, বেজুয়া বাজারের দিকে এগিয়ে যায়। এই গন্তব্যস্থলটি স্থানীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য বিক্রি করে। ভ্যানের যাত্রা চলাকালে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর চলতে থাকে।
বাজারের কাছাকাছি একটি নদীর তীরে ডিগরাজ থেকে বাগেরহাট জেলার দিকে একটি বড় নৌকা ভিড়ের সঙ্গে চলছিল। নৌকায় কাঁকড়া পরিবহন করা হচ্ছিল; এই কাঁকড়া প্রথমে ঢাকা পৌঁছে, পরে রপ্তানির জন্য বিদেশে পাঠানো হয়। নৌকা চালকদের সঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও, তারা মূলত তাদের ব্যবসায়িক কাজের ওপরই মনোনিবেশ করছিল।
সামগ্রিকভাবে, ভোটারদের সম্মান ও তাদের প্রত্যাশা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে বর্তমান পর্যায়ে কোনো দলই স্পষ্টভাবে ভোটের প্রবণতা নির্ধারণ করতে পারছে না, কারণ ভোটের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি এবং প্রচার কার্যক্রম চলমান।
নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায় সব দলই ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলছে। ভোটারদের সিদ্ধান্ত কীভাবে গঠিত হবে, তা পরবর্তী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে, এবং ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দিক নির্ধারণ করবে।



