ইরানের নতুন আইন অনুসারে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারকে ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি সমতুল্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে। একই সময়ে সরকার আন্তর্জাতিক ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকারকে আর নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না; কেবল নিরাপত্তা অনুমোদনপ্রাপ্ত বা সরকারি যাচাই পার হওয়া ব্যক্তিরাই সীমিত, ফিল্টার করা গ্লোবাল নেট ব্যবহার করতে পারবে।
ফিল্টারওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ইরান শীঘ্রই সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব জাতীয় ইন্টারনেটের দিকে অগ্রসর হবে, যা বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সমান্তরাল সিস্টেম। এই নেটওয়ার্কে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত সার্চ ইঞ্জিন, মেসেজিং অ্যাপ এবং দেশীয় স্ট্রিমিং সেবা চালু থাকবে, ফলে ব্যবহারকারীরা বিদেশি সাইটে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না।
ডিজিটাল অধিকার সংস্থাগুলি উল্লেখ করেছে যে, এই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তুলতে চীন ও হুয়াওয়ের উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। চীনা সরঞ্জাম ও হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক উপাদানগুলির মাধ্যমে ইন্টারনেট ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ, ফিল্টারিং এবং প্রয়োজনে সম্পূর্ণ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পরিসরও রেকর্ড ভাঙার দিকে অগ্রসর হয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংযোগ বিচ্ছিন্নতা ২০০ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয়েছে, যা ২০১১ সালে মিশরের তাহরির স্কোয়ারে ঘটিত শাটডাউনের সময়ের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়কালে ইরানে কোনো স্থায়ী ইন্টারনেট সংযোগ উপলব্ধ ছিল না।
সরকারি মুখপাত্রের মতে, এই ব্ল্যাকআউট নওরোজ, অর্থাৎ ইরানি নববর্ষের ২০ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। বিশ্লেষকরা এটিকে স্বল্পমেয়াদী সিদ্ধান্ত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। ফলে ইন্টারনেটের স্বাভাবিক প্রবাহে ব্যাঘাতের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়নি।
প্রদর্শনকারীরা পূর্বে ইলন মাস্কের স্টারলিংক সেবাকে একমাত্র বিকল্প হিসেবে দেখছিল, তবে ২০২৫ সালে গৃহীত নতুন আইনের অধীনে স্টারলিংক টার্মিনাল রাখা রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধে পরিণত হয়েছে, যার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এই আইনের ফলে বহু ব্যবহারকারী এখন অবৈধভাবে এই সেবা ব্যবহার করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে।
ইরানের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে সমালোচনা পাচ্ছে, কারণ এটি নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ করে এবং সরকারী নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে, চীন ও রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার ইঙ্গিত করে যে ইরান বৈশ্বিক ইন্টারনেটের পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য, স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
সারসংক্ষেপে, ইরানের নতুন আইন স্টারলিংককে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে জাতীয় নেটওয়ার্কে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা চালু করেছে। এই পরিবর্তনগুলো নাগরিকদের ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতায় বড় প্রভাব ফেলবে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাড়তি নজরদারি ও সমালোচনার সম্ভাবনা তৈরি করবে।



