হবিগঞ্জ‑৪ (মাধবপুর‑চুনারুঘাট) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসলামি ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরি, তার নির্বাচনী হলফনামায় ‘সুদের আয়’ উল্লেখের ওপর মিডিয়ায় সৃষ্ট বিতর্কের উত্তর দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি এবং স্বার্থপর গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা, যা তার সুনাম ক্ষুন্ন করতে চায়।
তাহেরি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ফ্রন্টের প্রতিনিধিত্বে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বে তিনি ধর্মীয় বক্তা ও সামাজিক কর্মী হিসেবে পরিচিত, আর এই নির্বাচনে তিনি ব্যবসা ও কৃষি ভিত্তিক প্রোফাইল তুলে ধরেছেন। তার স্ত্রী গৃহিণী, এবং পরিবারের আর্থিক সম্পদ সম্পূর্ণ তার নিজের নামে নিবন্ধিত।
নির্বাচনী হলফনামা প্রকাশের পর, ‘ব্যাংক সুদ থেকে আয়’ শিরোনামে একটি কলাম উল্লেখের ফলে মিডিয়ায় প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে, সুদ‑আয়ের পরিমাণ ২২,৮৯২ টাকা উল্লেখ করা হলে, তা আলাদা করে তুলে ধরা হয়, যদিও একই কলামে বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও আমানতও তালিকাভুক্ত। এই পার্থক্যই বিতর্কের মূল কারণ।
তাহেরি বলেন, পুরো বিষয়টি একটি ভুল ধারণা এবং তার বিরোধী গোষ্ঠীর কৌশলগত প্রচারণা। তিনি জোর দেন, নির্বাচনী ফরমে ব্যাংকে রাখা অর্থের পরিমাণ ও সেখান থেকে প্রাপ্ত মুনাফা দুটোই একসাথে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, এবং কোনো কলামকে আলাদা করে চিহ্নিত করা তার দায়িত্ব নয়।
হলফনামা অনুসারে, তাহেরির মোট সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তার আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা ও কৃষি, যেখানে কৃষি থেকে বার্ষিক ২৬,৪০০ টাকা, ব্যবসা থেকে ৭ লাখ ৯১ হাজার টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া বন্ড, সঞ্চয়পত্র, আমানত এবং সুদ থেকে মোট ২২,৮৯২ টাকা আয় হয়েছে। তার স্বামী‑স্ত্রীর নামে কোনো স্থাবর সম্পদ, অস্থাবর সম্পদ বা স্বর্ণালংকারের রেকর্ড নেই; তবে তার নিজের নামে ৩১ ভরি স্বর্ণের তালিকাভুক্তি রয়েছে।
তাহেরি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচনী কমিশনের ফরমে বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদ সবই একত্রে উল্লেখ করা হয়, তাই কোনো একটিকে আলাদা করে চিহ্নিত করা তার দায়িত্বের মধ্যে নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিডিয়াতে সুদ‑আয়কে আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে, যদিও তা ফরমের অংশ হিসেবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিবাদী দল ও কিছু বিশ্লেষক এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, তাহেরি বলেন, কেউ তার কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করেনি যে সুদ‑আয় কোন খাত থেকে এসেছে। তিনি যুক্তি দেন, সুদ‑আয় জমা করা হতে পারে স্বেচ্ছায় দান করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোনো ধর্মীয় দান হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে; এ বিষয়ে তাকে কোনো প্রশ্ন করা হয়নি।
এই ব্যাখ্যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি সময়ে প্রকাশিত হওয়ায়, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে এই বিতর্ক তার ভোটার ভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী প্রার্থীরা ইতিমধ্যে এই বিষয়টি ব্যবহার করে তার আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে, যা ভোটারদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাহেরি তার সমর্থকদের আশ্বস্ত করছেন যে তিনি সব তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করেছেন এবং কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নন।
আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে, এই ধরনের বিতর্ক প্রায়ই ভোটারদের মনোভাব গঠন করে। যদি মিডিয়া ও বিরোধীরা সুদ‑আয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে, তবে তা তাহেরির ভোটের সম্ভাবনাকে হ্রাস করতে পারে। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা এই বিষয়কে রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে দেখিয়ে তার পক্ষে রক্ষা করার চেষ্টা করবে।
সারসংক্ষেপে, গিয়াস উদ্দিন তাহেরি তার নির্বাচনী হলফনামায় সুদ‑আয় উল্লেখের ওপর মিডিয়ার অতিরিক্ত ফোকাসকে ভুল তথ্য হিসেবে খণ্ডন করেছেন এবং জোর দিয়ে বলেছেন যে ফরমে বন্ড, সঞ্চয়, আমানত ও সুদ সবই একসাথে তালিকাভুক্ত। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়টি তার রাজনৈতিক ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং তিনি তার আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন্ন নির্বাচনে এই বিতর্কের প্রভাব কেমন হবে, তা ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।



