আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশনের প্রাক্তন মেয়র শেখ ফজলে নূর টাপশ এবং প্রাক্তন মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক অন্তর্ভুক্ত। অভিযোগগুলো জুলাই উত্থানকালে মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
প্রসিকিউশন দল আইসিটি‑১-এ এই মামলাটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের ধারা অনুযায়ী দায়ের করেছে। উক্ত অপরাধগুলোকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের অধীনে বিচারযোগ্য।
মামলাটি জুলাই উত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে ঘটিত হত্যাকাণ্ডের ওপর ভিত্তি করে গৃহীত হয়েছে। ঐ সময়ে এলাকায় ব্যাপক হিংসা ও গুলিবর্ষণ দেখা গিয়েছিল, যার ফলে বহু নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ঘটনাগুলোকে অপরাধমূলক দায়িত্বের আওতায় আনা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইসিটি‑১-এ দায়ের করা অভিযোগগুলোতে মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে টাপশ ও নানকের পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বও অন্তর্ভুক্ত। সকল অভিযুক্তের নাম মূল অভিযোগপত্রে উল্লেখিত হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অপরাধের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের প্রধান গাজী মনাওয়ার হোসেন তামিম আজ সকালে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, আজ (রবিবার) এই মামলায় প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শুনানির সময় আদালত অভিযোগপত্রের বিষয়বস্তু যাচাই করবে এবং প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকলে তা শোনার সুযোগ দেবে। আইসিটি‑১-এ এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রমাণের ভিত্তিতে সাক্ষ্য, ডকুমেন্ট এবং ফরেনসিক রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
প্রসিকিউশন দল উল্লেখ করেছে যে, এই অভিযোগগুলোকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। আদালতকে এই মামলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে উক্ত সময়ের ঘটনার শিকারদের পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা প্রদান করা যায়।
টাপশ, যিনি পূর্বে ঢাকা সাউথ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবং নানক, যিনি মন্ত্রিপদে ছিলেন, উভয়ই রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন। তবে এই অভিযোগের ফলে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও সুনাম উভয়ই প্রভাবিত হতে পারে।
অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে কিছু নাম সরকারি নথিতে উল্লেখ আছে, তবে তাদের পেশাগত পটভূমি ও পূর্বের পদবী সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সকল অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে সমানভাবে বিচার করা হবে বলে আদালত নিশ্চিত করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১, যা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলায় বিশেষায়িত, এই ধরনের মামলায় কঠোর আইনি মানদণ্ড প্রয়োগ করে। ট্রাইব্যুনালের পূর্বের রায়গুলো দেখায় যে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।
এই মামলার দায়েরের পর থেকে দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠী থেকে মন্তব্যের ঝড় উঠেছে। অধিকাংশেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে এবং উক্ত সময়ের ঘটনার শিকারদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
আইসিটি‑১-এ আজকের শুনানিতে উক্ত অভিযোগের বিশদ বিবরণ উপস্থাপন করা হবে এবং প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের রক্ষা কৌশল নির্ধারণের সুযোগ পাবে। আদালতকে উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, মামলাটি পূর্ণাঙ্গভাবে অগ্রসর হবে নাকি কোনো প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করা হবে।
এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে। আদালত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি নিশ্চিত করেছে যে, মামলার গতি দ্রুত রাখার পাশাপাশি প্রমাণের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।
মামলার পরবর্তী ধাপগুলোতে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী বর্ণনা এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আইসিটি‑১-এ এই ধরনের জটিল মামলায় সাধারণত কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তবে আদালত দ্রুত ন্যায়বিচার প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সারসংক্ষেপে, আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑১-এ ২৮ জনের বিরুদ্ধে, যার মধ্যে টাপশ ও নানকও রয়েছেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি জুলাই উত্থানের সময় মোহাম্মদপুরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং আজই প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আদালত ও প্রসিকিউশন উভয়ই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যাতে উক্ত সময়ের শিকারদের পরিবারকে কিছুটা সান্ত্বনা প্রদান করা যায়।



