শিক্ষা বিভাগ এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংস্থা যৌথভাবে একটি সৃজনশীল কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে, যেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যানভাসে রঙের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের দৃশ্যাবলি চিত্রিত করবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল শিশুরা মুক্ত ও উদার পরিবেশে নিজেদের কল্পনাশক্তি ব্যবহার করে জাতীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে নিজের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করা।
শিশুদের স্বভাবগতভাবে নিষ্পাপ, স্নিগ্ধ এবং কল্পনাপ্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; তারা জটিল রাজনৈতিক বা সামাজিক দ্বন্দ্বের সরাসরি অভিজ্ঞতা না থাকলেও রঙের মাধ্যমে তা উপলব্ধি করতে পারে। কর্মশালার পরিকল্পনাকারীরা উল্লেখ করেছেন, মুক্ত পরিবেশ এবং যথাযথ উৎসাহ ছাড়া শিশুরা তাদের অন্তর্নিহিত সৃজনশীলতা বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই এই কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিশুরা স্বাধীনভাবে তাদের মনের রঙগুলোকে ক্যানভাসে প্রকাশের সুযোগ পাবে।
কর্মশালার কাঠামোতে প্রথমে সংক্ষিপ্ত ঐতিহাসিক পটভূমি উপস্থাপন করা হবে, যাতে শিশুরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল ঘটনাবলি এবং সেই সময়ের তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ সম্পর্কে মৌলিক ধারণা পায়। এরপর তারা নিজেদের কল্পনা ব্যবহার করে রঙের মাধ্যমে যুদ্ধের দৃশ্য, রক্তাক্ত তরুণদের চিত্র এবং স্বাধীনতার আনন্দকে চিত্রায়িত করবে। একই সঙ্গে, সাম্প্রতিক সময়ে ঘটিত গণআন্দোলন—যা দেশের বহু তরুণের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে—ও তাদের শিল্পকর্মে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
এই কর্মশালার মাধ্যমে শিশুরা কেবল ইতিহাসের জ্ঞানই অর্জন করবে না, বরং ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতি তাদের দায়িত্ববোধও গড়ে তুলবে। পরিকল্পনাকারীরা বিশ্বাস করেন, যখন শিশুরা নিজেদের হাতে রঙের মাধ্যমে ঐতিহাসিক সত্যকে পুনর্গঠন করে, তখন তারা ভবিষ্যতে ন্যায়সঙ্গত ও সাহসী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
কর্মশালার সময়সূচি এবং স্থান সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে এটি শহরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় হলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের ১০০ জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হবে, এবং প্রতিটি শিশুকে একটি ক্যানভাস ও রঙের সেট সরবরাহ করা হবে।
শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মশালার সময় শিশুরা কীভাবে রঙ ব্যবহার করবে, কীভাবে তাদের ধারণা প্রকাশ করবে সে বিষয়ে নির্দেশনা দেবে, তবে সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রাখবে। প্রতিটি শিশুর কাজ শেষে একটি ছোট প্রদর্শনী হবে, যেখানে অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় নাগরিকরা অংশগ্রহণকারী শিশুর শিল্পকর্ম দেখতে পারবেন।
এই উদ্যোগের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমবায় কাজের মনোভাব গড়ে তোলা। শিশুরা একে অপরের কাজ পর্যবেক্ষণ করে, পরস্পরের ধারণা শেয়ার করে এবং সমষ্টিগতভাবে একটি বৃহৎ ঐতিহাসিক চিত্র তৈরি করবে। ফলে দলগত কাজের দক্ষতা এবং সামাজিক সংহতির অনুভূতি বৃদ্ধি পাবে।
কর্মশালার সমাপ্তি পর্বে অংশগ্রহণকারী শিশুরা তাদের অভিজ্ঞতা এবং শিখন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সেশনে অংশ নেবে। এই সেশনের মাধ্যমে তারা কীভাবে রঙের মাধ্যমে ইতিহাসকে পুনরায় কল্পনা করেছে এবং বর্তমান সমাজে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে তা প্রকাশ করবে।
শিশুদের সৃজনশীলতা ও কল্পনাশক্তি বিকাশে সহায়তা করার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষকদের কিছু ব্যবহারিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে: বাড়িতে নিয়মিত রঙের সামগ্রী রাখুন, শিশুকে স্বাধীনভাবে আঁকতে দিন এবং তার কাজের প্রশংসা করুন। এছাড়া, পরিবারিক আলোচনায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়ে আলোচনা করে শিশুর জ্ঞানভান্ডার সমৃদ্ধ করা যায়। এই ধরনের সমর্থন শিশুরা ভবিষ্যতে আরও আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।



