বাংলাদেশের প্রস্তুত পোশাক (RMG) রপ্তানি ইউরোপীয় ইউনিয়নে জানুয়ারি থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৭.৬৫ শতাংশ বাড়ে এবং মোট ১৮.০৫ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার) পৌঁছায়, যা একই সময়ের ২০২৪ সালের তুলনায় স্পষ্ট উন্নতি।
ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, এই বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ শতাংশ শিপমেন্ট বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কের পারস্পরিক সমন্বয় ফলে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে বেশি পণ্য পাঠাতে শুরু করেছে।
নতুন আমেরিকান শুল্ক নীতি দক্ষিণ এশিয়ার পোশাক বাণিজ্যকে পুনর্গঠন করেছে, ফলে উচ্চ শুল্কযুক্ত দেশগুলো ইউরোপে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে পণ্য বিক্রি করে শেয়ার বাড়াচ্ছে। এই পরিবর্তন ইউরোপীয় গার্মেন্টস বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র করেছে।
বছর-ও-বর্ষের মোট বৃদ্ধির সত্ত্বেও, নভেম্বর ২০২৫-এ ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি ১০.৮৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১.৩৭ বিলিয়ন ইউরো হয়, যা নভেম্বর ২০২৪ের তুলনায় কম। একই মাসে গার্মেন্টসের ইউনিট মূল্য ৩.২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, তবে রপ্তানি পরিমাণ ১১.২৬ শতাংশ বেড়েছে।
নভেম্বর ২০২৪ থেকে এক বছরের সময়কালে গার্মেন্টসের গড় ইউনিট মূল্য ১২.২৭ শতাংশ কমে গেছে, যা মূল্যের চাপের ইঙ্গিত দেয় যদিও পরিমাণে বৃদ্ধি দেখা যায়।
বাংলাদেশ এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম গার্মেন্টস রপ্তানিকারক, এবং চীনের সঙ্গে পার্থক্য কমছে। চীন একই সময়ে ২৪.৪২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের গার্মেন্টস রপ্তানি করেছে, যা ৬.৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশ মোট ৮২.৯৪ বিলিয়ন ইউরো গার্মেন্টস আমদানি করেছে, যা পূর্ব বছরের তুলনায় ৩.৯৩ শতাংশ বাড়েছে। এই মোট পরিমাণে বাংলাদেশের অবদান উল্লেখযোগ্য, যদিও চীনের শেয়ার এখনও সর্বোচ্চ।
প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে, তুরস্কের রপ্তানি ১১.৩১ শতাংশ কমে ৭.৬৫ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের রপ্তানি ৮.৩১ শতাংশ বাড়ে ৪.২৪ বিলিয়ন ইউরো, ক্যাম্বোডিয়ার ১৫.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.১৪ বিলিয়ন ইউরো, এবং ভিয়েতনামের ১০.১০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ৪.০১ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
পাকিস্তানের রপ্তানি ১০.৪৬ শতাংশ বাড়ে ৩.৫৪ বিলিয়ন ইউরো, মরক্কোর রপ্তানি সামান্য ০.১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২.৫২ বিলিয়ন ইউরো, শ্রীলঙ্কার রপ্তানি ৬.৪৩ শতাংশ বাড়ে ১.২৫ বিলিয়ন ইউরো, এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৩.৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ০.৯ বিলিয়ন ইউরো হয়েছে।
স্থানীয় রপ্তানিকারকরা সরকারকে ইউরোপীয় বাজারে শর্তাবলি উন্নত করতে এবং শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনায় ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি পরিবর্তনের ফলে ইউরোপে রপ্তানি বাড়লেও, দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি প্রয়োজন।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গার্মেন্টস চাহিদা স্থিতিশীল থাকলেও, মূল্য হ্রাস এবং প্রতিযোগিতার তীব্রতা রপ্তানিকারকদের মার্জিনকে চাপিয়ে দিতে পারে। তাই, উৎপাদন দক্ষতা বাড়ানো এবং উচ্চ মানের পণ্য তৈরি করা ভবিষ্যতে বাজার শেয়ার বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সারসংক্ষেপে, বাংলাদেশের গার্মেন্টস রপ্তানি ইউরোপে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মাসিক পতন এবং ইউনিট মূল্যের হ্রাস ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। সরকার ও শিল্প সংস্থার সমন্বিত নীতি ও কৌশলই রপ্তানি বৃদ্ধির ধারাকে স্থায়ী করতে মূল চাবিকাঠি হবে।



