সাল্জবুর্গের কাছাকাছি পংগাউ এলাকায় ১৭ জানুয়ারি শনিবার তীব্র তুষারপাতের সময় একাধিক তুষারধস ঘটেছে। প্রথম ধসে একটি নারী স্কিয়ার তুষারের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান, আর প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে একই অঞ্চলে অফ‑পিস্টে স্কি করা সাতজনের দলকে লক্ষ্য করে আরেকটি ধস নেমে আসে, যার ফলে চারজনের মৃত্যু এবং একজনের গুরুতর আঘাত হয়। বাকি দুই স্কিয়ার তুলনামূলকভাবে অক্ষত থেকে উদ্ধার করা হয়।
পংগাউতে কাজ করা পর্বত উদ্ধার সংস্থার মতে, প্রথম ধসে ঘটনার সময় তীব্র হাওয়া এবং তুষারের স্তর অস্থিতিশীল ছিল। তৎকালীন সময়ে স্কি করা নারী স্কিয়ার একা ছিল; তুষারধসের ফলে তার শ্বাসরোধ হয়ে যায় এবং উদ্ধারকর্মীর উপস্থিতি সত্ত্বেও তার জীবন রক্ষা করা যায়নি। একই দিনে, অন্য একটি দল সাতজনের গঠন করে অফ‑পিস্টে স্কি করছিল। হঠাৎ তাদের ওপর তুষারধস নেমে আসে, যার ফলে চারজন স্কিয়ার তৎক্ষণাৎ মারা যায়, আর একজন গম্ভীরভাবে আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বাকি দুইজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।
পংগাউ পর্বত উদ্ধার পরিষেবার জেলা প্রধান গেরহার্ড ক্রেমসার মৃতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “এই দু:খজনক ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে বর্তমান তুষারধসের ঝুঁকি কতটা উচ্চ।” তিনি তীব্র শীতলতা এবং অনিয়ন্ত্রিত তুষারস্তরের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
এই দু’দিনের ঘটনাগুলি আল্পস অঞ্চলে সাম্প্রতিক সপ্তাহে ধারাবাহিকভাবে ঘটছে। গত মঙ্গলবার অস্ট্রিয়ার ব্যাড গাস্টাইন স্কি রিসোর্টে তুষারধসে ১৩ বছর বয়সী চেক কিশোরের মৃত্যু ঘটেছিল। তীব্র শীতলতা, হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন এবং তুষার স্তরের অস্থিরতা এই অঞ্চলে তুষারধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্বত নিরাপত্তা নীতি সমন্বয়কারী অফিসার মার্টিন হোফম্যান উল্লেখ করেন, “আল্পসের মতো উচ্চ পর্বতশ্রেণীর দেশে তীব্র শীতলতা এবং তুষারধসের ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।” তিনি যুক্তি দেন যে সীমান্ত পারাপার স্কি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় রেসকিউ সেবা এবং আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থার মধ্যে তথ্য শেয়ারিং বাড়ানো প্রয়োজন। হোফম্যানের মতে, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড এবং ইতালি ইতিমধ্যে একটি যৌথ তুষারধস সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করেছে, তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি দেখায় যে এই সিস্টেমের কার্যকারিতা বাড়াতে অতিরিক্ত সম্পদ এবং প্রশিক্ষণ দরকার।
অস্ট্রিয়ার ফেডারেল সরকারও তীব্র শীতলতা মোকাবিলায় অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব গ্যাব্রিয়েল শ্নাইডার জানান, “শীতকালীন পর্যটন মৌসুমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা রেসকিউ টিমের সরঞ্জাম আপডেট এবং তুষারধস পূর্বাভাসের জন্য রাডার সিস্টেমের বিস্তৃতি বাড়াব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এই পদক্ষেপগুলি ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে তীব্র শীতলতা এবং তুষারধসের ঝুঁকি শুধু অস্ট্রিয়ার নয়, পুরো আল্পস অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ চ্যালেঞ্জ। ইউরোপীয় পর্বত নিরাপত্তা ফোরাম সম্প্রতি একটি সম্মেলন আয়োজন করে যেখানে অস্ট্রিয়া, ইতালি, সুইজারল্যান্ড এবং ফ্রান্সের পর্বত রেসকিউ সংস্থাগুলি একত্রে কাজ করার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল ত্বরিত তথ্য বিনিময়, যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সীমানা পারাপার রেসকিউ অপারেশন সহজতর করা।
সামগ্রিকভাবে, পংগাউতে ঘটিত দু’টি তুষারধসের ফলে পাঁচজনের মৃত্যু এবং একাধিক আহত হয়েছে, যা আল্পসের শীতকালীন পর্যটন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং জাতীয় পর্যায়ে তীব্র শীতলতা মোকাবিলার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।



