28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeখেলাধুলাঅস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তি ড্যামিয়েন মার্টিন মেনিনজাইটিসে ৫০% বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পেয়ে পুনরুদ্ধার...

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তি ড্যামিয়েন মার্টিন মেনিনজাইটিসে ৫০% বেঁচে থাকার সম্ভাবনা পেয়ে পুনরুদ্ধার সম্পন্ন

অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার ড্যামিয়েন মার্টিন, ৫৪ বছর বয়সে, ২৭ ডিসেম্বর মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে জরুরি হাসপাতালে ভর্তি হন। মস্তিষ্কের চারপাশের ঝিল্লি ফোলার ফলে রোগটি দ্রুত অগ্রসর হওয়ায় তাকে ইন্ডিউসড কোমায় রাখা হয়।

মেডিক্যাল টিমের মতে, রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র অর্ধেক, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ। এই কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও মার্টিন আট দিন কোমায় কাটিয়ে উঠে, চিকিৎসকেরা আশ্চর্য হয়ে দেখেন তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছেন।

কোমা থেকে বেরিয়ে আসার পর প্রথম কয়েক দিন মার্টিন হাঁটতে ও কথা বলতে অক্ষম ছিলেন। তবে চার দিন পর তিনি নিজে নিজে দাঁড়িয়ে হাঁটা শুরু করেন এবং কথা বলতে সক্ষম হন, যা চিকিৎসক দলকে অবাক করে দেয়। এই অপ্রত্যাশিত অগ্রগতি তাকে হাসপাতালে থেকে ছাড়িয়ে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেয়।

বাড়িতে ফিরে এসে মার্টিন সামাজিক মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনের নাজুকতা উপলব্ধি করার পর তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য পরিবার ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি ২০২৬ সালের জন্য নতুন লক্ষ্য স্থাপন করে, “আমি ফিরে এসেছি” বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

মার্টিনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার ১৯৯২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিস্তৃত, যেখানে তিনি ৬৭টি টেস্ট ম্যাচ এবং ২০৮টি ওয়ান-ডে আন্তর্জাতিক (ওডিআই) খেলেছেন। তার ব্যাটিং গড় ৪৬.৩৭ এবং ১৩টি টেস্ট সেঞ্চুরি রয়েছে, যা তাকে সময়ের অন্যতম শীর্ষ স্ট্রোকমেকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্টিভ ওয়াওয়ের অধীনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী দলে মার্টিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ২০০৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে তিনি ৮৮ রান না-আউট করে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে জয়ী ম্যাচে রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলেন। এই পারফরম্যান্স তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও স্বীকৃতি এনে দেয়।

অস্ট্রেলিয়ার ঐতিহাসিক ২০০৩ বিশ্বকাপ জয়ে মার্টিনের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তার অর্ধশতকীয় স্কোর ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখে। তার আক্রমণাত্মক শটগুলো এবং ধারাবাহিকতা দলকে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আত্মবিশ্বাস দেয়।

২০০৬ সালে অ্যাশেস সিরিজের সময় মার্টিন তার ক্যারিয়ার শেষ করেন এবং তৎপরবর্তী সময়ে মিডিয়া ও জনসাধারণের দৃষ্টিতে কম উপস্থিতি বজায় রাখেন। তবে তার স্বাস্থ্যের অগ্রগতি এবং পুনরুদ্ধার সংবাদে তিনি আবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মেনিনজাইটিসের ফলে মার্টিনের শারীরিক অবস্থা গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলেও, তার দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং চিকিৎসা দলের সমর্থন তাকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের পথে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে পুনরায় শারীরিক প্রশিক্ষণ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।

মার্টিনের পরিবার ও বন্ধুদের সমর্থন তার পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত তার পোস্টে তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, “আমি আবার বাড়িতে, সমুদ্রের বালিতে পা রাখতে পারছি” বলে আনন্দ প্রকাশ করেন।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট সংস্থা এবং তার প্রাক্তন সহকর্মীরা মার্টিনের সুস্থতা নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে তার দ্রুত সেরে ওঠা ক্রীড়া জগতের জন্য ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্টিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৬ সালে আবার ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত হতে চান, যদিও তার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমান সময়ে তিনি সম্পূর্ণভাবে শারীরিক পুনরুদ্ধার ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
AI-powered খেলাধুলা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments