ট্রাস্ট ব্যাংক ২০২৬ সালের মধ্যে চালু করা কোটিপতি সঞ্চয় স্কিমে, নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য মাসিক নির্দিষ্ট পরিমাণ জমা করলে সর্বোচ্চ ২০ বছরে এক কোটি টাকা পর্যন্ত গঠন করা সম্ভব। স্কিমের মেয়াদ পাঁচ থেকে বিশ বছর পর্যন্ত নির্বাচন করা যায় এবং সুদের হার স্থির দশ শতাংশ।
মেয়াদ যত দীর্ঘ হবে, মাসিক কিস্তি তত কম হবে; আর স্বল্প মেয়াদে কিস্তি বেশি হবে। সর্বোচ্চ বিশ বছরের পরিকল্পনায় মাসিক কিস্তি ১৩,২৫০ টাকা নির্ধারিত, যেখানে সর্বনিম্ন পাঁচ বছরের পরিকল্পনায় মাসিক কিস্তি ১,২৮,৫০০ টাকা।
অন্যান্য মেয়াদের কিস্তি নিম্নরূপ: অষ্টাদশ বছর বেছে নিলে মাসে ১৬,৭০০ টাকা, পনেরো বছর বেছে নিলে ২৪,২০০ টাকা, বারো বছর বেছে নিলে ৩৬,২০০ টাকা, দশ বছর বেছে নিলে ৪৮,৮০০ টাকা এবং সাত বছর বেছে নিলে ৮২,৪০০ টাকা। এই পরিমাণগুলো স্কিমের মূলধন ও সুদকে সমন্বয় করে গড়ে তোলা হয়েছে।
সুদ হার দশ শতাংশ নির্ধারিত, যা গত ডিসেম্বরে দেশের গড় মুদ্রাস্ফীতি ৮.৪৯ শতাংশের তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালের গড় মুদ্রাস্ফীতি ৮.৭৯ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল, ফলে বর্তমান সুদ হারকে তুলনামূলকভাবে যুক্তিসঙ্গত হিসেবে দেখা যায়।
দেশের অন্যান্য ব্যাংকও অনুরূপ কোটিপতি স্কিম চালু করেছে, যেখানে সুদের পার্থক্য প্রায় উনিশ থেকে বিশ বেসিস পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই সমতুল্য হারগুলো বাজারে সঞ্চয় পণ্যের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করেছে এবং গ্রাহকদের জন্য বিকল্পের পরিসর বিস্তৃত করেছে।
বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে, ঝুঁকি কমাতে এবং স্থিতিশীল রিটার্ন পেতে ইচ্ছুক মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর জন্য এই স্কিমটি উপযোগী হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় পরিকল্পনা ব্যাংকের জমা ভিত্তি শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে, যা ব্যাংকের তরলতা ও ঋণদানের সক্ষমতাকে সমর্থন করবে।
তবে, সঞ্চয় পণ্য বাছাই করার আগে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা জরুরি। দুর্বল আর্থিক অবস্থার ব্যাংকে টাকা জমা করলে ডিফল্টের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে, তাই গ্রাহককে ব্যাংকের রেটিং ও ক্যাপিটাল যথেষ্টতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সঞ্চয়ের সঠিক পদ্ধতি হিসেবে, ব্যয় করার আগে নির্ধারিত পরিমাণ সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অর্থাৎ, আয়ের একটি অংশ আগে থেকেই সঞ্চয় হিসেবে আলাদা করে রাখলে, অপ্রত্যাশিত খরচের মুখে আর্থিক নিরাপত্তা বজায় থাকে।
ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, যদি মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ মাত্রায় থাকে, তবে দশ শতাংশের স্থির সুদ হার সঞ্চয়কারীদের জন্য আকর্ষণীয় বিকল্প রয়ে যাবে। তবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদের হার বৃদ্ধি করলে এই স্কিমের আপিল কমে যেতে পারে, ফলে গ্রাহকদের বিকল্প পণ্য অনুসন্ধান করতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাস্ট ব্যাংকের কোটিপতি স্কিম দীর্ঘমেয়াদে এক কোটি টাকা অর্জনের লক্ষ্য রাখে, মাসিক কিস্তি ও সুদের হার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, এবং বাজারের অন্যান্য সমমানের পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক। তবে, বিনিয়োগের আগে ব্যাংকের আর্থিক দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত সঞ্চয় পরিকল্পনা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।



