যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশে রূপান্তর করার পরিকল্পনা প্রকাশ করে, এবং এ বিষয়ে কোনো পশ্চিমা মিত্রের বিরোধিতা হলে বাণিজ্যিক শাস্তি আরোপের ইঙ্গিত দেন। এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের এই হুমকি পূর্বের কোনো অর্থনৈতিক চাপে তুলনায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং ন্যাটো জোটের ঐক্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। হুমকিটি স্বল্প সময়ের মধ্যে মিত্র দেশগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কানাডা বিশেষভাবে এই পরিস্থিতিতে অস্থিরতা প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের হ্রাসের ফলে কানাডার রপ্তানি ও আমদানি পরিমাণে প্রভাব পড়েছে, তবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিকল্প কৌশল গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
কার্নি সরকারের কৌশল অনুযায়ী কানাডা বিশ্ববাজারে তার বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব বাড়িয়ে তুলতে চায়, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহে তিনি চীনে একটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে অংশগ্রহণ করে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা আলোচনা করেছেন।
কানাডার বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক ঘাটতি পূরণে অন্যান্য দেশ থেকে রপ্তানি ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হ্রাসমান বাণিজ্যের ক্ষতিপূরণে সহায়তা করেছে। এই বৃদ্ধি কানাডার মোট বাণিজ্যিক আয়কে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে।
ট্রাম্পের প্রশাসন তিন মাস আগে ‘চীন বনাম বিশ্ব’ শিরোনামে একটি বাণিজ্যিক কৌশল উপস্থাপন করেছিল, যেখানে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে হ্রাস করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে কার্নি এই দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পরিকল্পনা ন্যাটো জোটের মধ্যে বিভাজন ঘটাতে পারে, কারণ জোটের সদস্য দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক শর্তাবলীর ওপর নির্ভরশীল হতে হবে। এই পরিস্থিতি ন্যাটোর সমন্বিত নীতি ও কৌশলগত সমন্বয়কে জটিল করে তুলতে পারে।
মিত্র দেশগুলোর সরকারী কর্মকর্তারা ট্রাম্পের হুমকির প্রতি বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন যে, এমন একটি ভূ-রাজনৈতিক পদক্ষেপের বাস্তবায়নযোগ্যতা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সমর্থন সম্পর্কে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
কানাডা ছাড়াও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে, বৈচিত্র্যময় বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক শৃঙ্খলে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং জোটের মধ্যে আস্থা হ্রাস পেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কংগ্রেস বা তার নিজস্ব প্রশাসনের স্পষ্ট সমর্থন পাওয়া যায়নি।
অবশিষ্ট সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি এবং কংগ্রেসের অবস্থান ট্রাম্পের এই উদ্যোগের সফলতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মিত্র দেশগুলো এই অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে।
সারসংক্ষেপে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের হুমকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করেছে, এবং মিত্র দেশগুলোকে তাদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতি পুনরায় মূল্যায়ন করতে বাধ্য করেছে।



