চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও বন্দর‑পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) থেকে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত মোট সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এই ব্যবস্থা জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কাজের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পিত বন্ধের ফলে প্রভাবিত এলাকাগুলোতে ব্যবসা, শিল্প ও গৃহস্থালির দৈনন্দিন কার্যক্রমে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে রোববারের জন্য নির্ধারিত সময়ে অক্সিজেন, গোলবাগ আবাসিক এলাকা, কয়লার ঘর, ওয়াজেদীয়া, শীতল ঝর্ণা আবাসিক এলাকা, নয়ারহাট, চালিতাতলী, বদির কলঘর, খন্দকার পাড়া, বক্সুনগর, পাঠানপাড়া, হাজীপাড়া, পূর্ব মসজিদ, ভুক্তপুর, বেলতল, তুলা কোম্পানি, কামরাবাদ ও জাহানপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এছাড়াও একই সময়ে বনানী আবাসিক এলাকা, গরিবে নেওয়াজ আবাসিক এলাকা, শহিদ নগর, সবুর আবাসিক এলাকা, রূপনগর আবাসিক এলাকা, আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজ এলাকা, সংগীত‑সিনেমা রোড থেকে জাঙ্গালপাড়া, ওয়াজেদীয়া মাদরাসা, নয়ারহাট, হিন্দুপাতা, ভক্তপুর (আংশিক), নজরা পুকুরপাড়া, কমিশনারের বাড়ি, হাশেম মেম্বারের বাড়ি, পূর্ব শিকারপুর, রশিদ বাড়ি, মদুনাঘাট বাজার, দক্ষিণ মাদরাসা, মধ্যম মাদরাসা, গ্রিন কলোনি রোড, রহমানিয়া সেতু, চিনারপোল, ব্রাহ্মণহাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) একই সময়ে নগরীর বায়োজিদ এলাকার ক্লিপটন গার্মেন্টস, রেনেস্কো গার্মেন্টস, খন্দকিয়া বাজার, খন্দকিয়া ট্যাম্পু স্ট্যান্ড, এম.কে. স্টীল, মাজার গেট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া, কেডিএস গার্মেন্টস থেকে শেরশাহ, পাহাড়িকা আবাসিক, ভেড়া ফকির, সাংবাদিক সোসাইটি ও সমবায় আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
অতিরিক্তভাবে মোহাম্মদ নগর, শান্তি নগর, শেরশাহ কলোনি, তারা গেট, রাজামিয়া মার্কেট, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পদ্মা প্লাস্টিক, ধূপ পোল, চক্রোশো কানন, কুয়াইশ, ভরা পুকুর, নজুমিয়া হাট, তেতুঁলতলা, উত্তর ও দক্ষিণ বুড়িশ্চর, মধ্যম বুড়িশ্চর, বুড়িশ্চর বাজার, ফকিরের দোকান, রশিদ বাড়ি, খালেকের হাট, আজিজিয়া মাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একই সময়ে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে।
মঙ্গলবারের (২০ জানুয়ারি) পরিকল্পনা রোববারের তালিকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, অর্থাৎ একই সময়ে একই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ আছে।
এই তিন দিনব্যাপী বিদ্যুৎ বন্ধের ফলে গার্মেন্টস কারখানা, ইস্পাত ও ধাতু প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট, প্লাস্টিক উৎপাদন ও রপ্তানি সংস্থা সহ বিদ্যুৎ-নির্ভর শিল্পগুলো উৎপাদন থামাতে বাধ্য হবে। উৎপাদন লাইন বন্ধ হলে অর্ডার পূরণে বিলম্ব, গুদামজাত পণ্যের সময়সীমা বাড়ে এবং রপ্তানি শিপমেন্টে ক্ষতি হতে পারে।
বাজার ও ছোটখাটো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও সরাসরি প্রভাবিত হবে। রোড সাইড বিক্রেতা, মুদি দোকান ও রেস্টুরেন্টের ক্ষেত্রে রেফ্রিজারেশন ও লাইটিং বন্ধ হওয়ায় বিক্রয় হ্রাস পাবে, ফলে দৈনিক আয় কমে যাবে। বিশেষ করে সন্ধ্যা বাজার ও হাটের বিক্রেতারা বিক্রয় সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রাহক হারাতে পারেন।
গৃহস্থালির জন্যও এই সময়সূচি অপ্রত্যাশিত অসুবিধা সৃষ্টি করবে। রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও ইলেকট্রিক গৃহযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় খাবারের সংরক্ষণে সমস্যা, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে বাধা এবং স্বাস্থ্যসেবা যন্ত্রপাতির অস্থায়ী বন্ধের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বন্ধের ফলে উৎপাদনশীলতা হ্রাস, বিক্রয় ক্ষতি এবং কর্মচারীর অতিরিক্ত কাজের সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কিছু বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ জেনারেটর ব্যবহার করে ক্ষতি কমাতে পারে, তবে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।
সরবরাহ শৃঙ্খলে এই ধরনের বাধা কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের সময়মত সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে শেষ গ্রাহকের কাছে পণ্যের ডেলিভারিতে বিলম্ব হয়। বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর গার্মেন্টস সেক্টরে আন্তর্জাতিক অর্ডার দেরি হলে শিপিং কন্টেইনারের অতিরিক্ত খরচ এবং শাস্তি আরোপের ঝুঁকি বাড়ে।
অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেম চালু করেছে, তবে জেনারেটরের



