ফ্লোরিডার ক্যাপ ক্যানাভেরালে নাসার আর্টেমিস II মিশনের জন্য ব্যবহৃত বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (SLS) আজ লঞ্চ প্যাডে স্থাপন করা হয়েছে। ৯৮ মিটার উচ্চতার এই রকেটটি প্রথমবারের মতো মানববাহী চাঁদ মিশনের পথে অগ্রসর হচ্ছে, যা ৫০ বছরেরও বেশি সময়ের পর চাঁদে মানুষ পাঠাবে।
রকেটটি ভেহিকল অ্যাসেম্বলি বিল্ডিং থেকে প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় নিয়ে লম্বা ৪ মাইল (৬.৫ কিলোমিটার) পথে লঞ্চ প্যাড ৩৯বি পর্যন্ত উল্লম্বভাবে সরানো হয়। এই প্রক্রিয়ায় রকেটটি সম্পূর্ণভাবে সমর্থিত অবস্থায় রাখা হয়, যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।
স্থানান্তরের সূচনা স্থানীয় সময়ে সকাল ৭:০৪ (গ্রীনউইচ মান সময়ে ১২:০৪) ঘটেছে এবং একই দিনে সন্ধ্যা ৬:৪১ (গ্রীনউইচ মান সময়ে ২৩:৪২) প্যাডে পৌঁছেছে। রকেটের গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এখন শেষ পর্যায়ের পরীক্ষা, যাচাই এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ড্রেস রিহার্সাল সম্পন্ন করা হবে।
রকেটটি একটি বিশাল ক্ৰলার‑ট্রান্সপোর্টার নামের যন্ত্রের মাধ্যমে সরানো হয়। এই যন্ত্রের সর্বোচ্চ গতি প্রায় ০.৮২ মাইল প্রতি ঘণ্টা (১.৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা), যা ধীর গতিতে চলার ফলে রকেটের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। সরাসরি সম্প্রচারিত দৃশ্যগুলোতে এই ধীর গমন দেখানো হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে নাসা রকেটকে ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামে পরিচিত একটি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করবে। এই পরীক্ষায় জ্বালানি লোডিং, ফুয়েল অপারেশন এবং কাউন্টডাউন প্রক্রিয়ার সিমুলেশন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে প্রকৃত উৎক্ষেপণের সময় কোনো ত্রুটি না ঘটে।
আর্থেমিস II মিশনের চারজন মহাকাশচারী—রিড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান জেরেমি হ্যানসেন—কেনেডি স্পেস সেন্টারে রকেটের স্থানান্তর পর্যবেক্ষণ করেন। তারা রকেটের শীর্ষে বসে থাকা মহাকাশযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করবে।
মিশনটি মোট দশ দিনব্যাপী হবে, যেখানে চারজন মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশে একবার ঘুরে ফিরে আসবে। যদিও আর্টেমিস II চাঁদে অবতরণ করবে না, তবে এটি ভবিষ্যৎ চাঁদ অবতরণ মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ভিত্তি স্থাপন করবে। নাসা এই মিশনকে মানবজাতির জন্য মহাকাশে নতুন সীমা উন্মোচনের এক ধাপ হিসেবে বিবেচনা করছে।
এই উৎক্ষেপণ ১৯৭২ সালের ডিসেম্বরের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর প্রথম মানববাহী চাঁদ মিশন হবে। সেই সময়ের পর থেকে মানবজাতি চাঁদে ফিরে আসার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে নাসা বহুবার চেষ্টা করেছে, এবং এখন আর্টেমিস II সেই স্বপ্নকে পুনরায় জীবন্ত করে তুলছে।
আগামী আর্টেমিস III মিশন চাঁদে অবতরণ করার লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত, যার লঞ্চের সর্বনিম্ন সময়সীমা ২০২৭, যদিও বিশেষজ্ঞরা ২০২৮কে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বছর হিসেবে দেখছেন। আর্টেমিস II সফল হলে আর্টেমিস III-র জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও অপারেশনাল অভিজ্ঞতা অর্জিত হবে।
নাসার এই অগ্রগতি আমাদেরকে মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন, আর্টেমিস সিরিজের পরবর্তী মিশনগুলো কীভাবে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে প্রভাবিত করবে? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



