ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর এক বছর পর, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি ও রেটরিকের পরিবর্তন কানাডার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশটি, যা দীর্ঘদিন নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ, এখন নতুন শুল্ক, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জনমত পরিবর্তনের মুখোমুখি।
ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার কয়েকটি মূল শিল্পে শুল্ক আরোপ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও শুল্কের ইঙ্গিত দিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো কানাডার রপ্তানি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে অটোমোবাইল, কাঠ এবং কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে। শুল্কের ফলে কানাডিয়ান ব্যবসা ও গ্রাহকরা উচ্চ মূল্যের সম্মুখীন হয়েছে, যা ক্রয় আচরণে পরিবর্তন এনেছে।
প্রশাসনের একটি উক্তি, যেখানে কানাডাকে “৫১তম রাজ্য” বলে উল্লেখ করা হয়, দেশীয় স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু নাগরিক উদ্বেগ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গর্বের প্রকাশও বাড়ে, যা পূর্বে দেখা যায়নি। এই রকম রেটরিকের ফলে কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জনমত জরিপে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৫ সালের বসন্তে করা জরিপে ৬৪ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে নেতিবাচকভাবে দেখেন, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর। পূর্বে অধিকাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বিবেচনা করতেন, তবে ট্রাম্পের শাসনকালে এই ধারণা উল্টে গেছে। একই জরিপে ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের নেতৃত্বে আস্থা হারিয়েছেন, নৌবহুল ৯০ শতাংশ তাকে অহংকারী বলে উল্লেখ করেছেন এবং ৭৫ শতাংশ তাকে বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনা করেন।
অ্যাঙ্গাস রিডের অক্টোবরের জরিপে প্রায় অর্ধেক কানাডিয়ান (৪৬ শতাংশ) যুক্তরাষ্ট্রকে “শত্রু বা সম্ভাব্য হুমকি” হিসেবে দেখতে চান। এই শতাংশ ভারত (২৪ শতাংশ) ও চীনের (৩৪ শতাংশ) তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা কানাডার নিরাপত্তা নীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নির্দেশ করে।
ট্রাম্পের নীতি কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেও প্রভাবিত করেছে। সরকারী নীতি ও পার্টি গঠন পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ঝুঁকি ও সুযোগ দুটোই বিবেচনা করা যায়। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (যা মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে) ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, যাতে একতরফা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিকল্প তৈরি করা যায়।
কানাডিয়ানদের ভ্রমণ ও কাজের ধরণেও পরিবর্তন দেখা গেছে। পূর্বে অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে কেনাকাটা, কাজ বা পরিবারিক ভ্রমণের জন্য যেতেন, তবে শুল্ক ও রেটরিকের ফলে এখন তারা বিকল্প গন্তব্য খুঁজছেন অথবা দেশীয় বাজারে ফিরে আসছেন। এই প্রবণতা বাণিজ্যিক প্রবাহে হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে।
সামগ্রিকভাবে, ট্রাম্পের শাসনকালে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের পরিবর্তে কৌশলগত পুনর্মূল্যায়নের পথে অগ্রসর হয়েছে। শুল্ক, রেটরিক, জনমত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক পুনর্গঠন একত্রে কানাডির ভবিষ্যৎ নীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করছে। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের দিকনির্দেশনা নির্ভর করবে উভয় দেশের নেতৃত্বের কূটনৈতিক পদক্ষেপ এবং কানাডিয়ান জনগণের স্বীকৃতির ওপর।



