ঢাকার পশ্চিম কেরানিগঞ্জে অবস্থিত পাঙ্গাওন ইনল্যান্ড কন্টেইনার টার্মিনাল (PICT) গতকাল থেকে মেডলগ বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে পুনরায় চালু হয়েছে। মেডলগ, সুইজারল্যান্ডের একটি বৃহৎ লজিস্টিক্স সংস্থা, টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।
এই টার্মিনালটি ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (CPA) ও বাংলাদেশ ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (BIWTA) যৌথভাবে নির্মাণ করে, মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। মূল লক্ষ্য ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ রেল ও সড়ক নেটওয়ার্কের উপর পণ্যবহন চাপ কমিয়ে, নদী পথে কন্টেইনার পরিবহনকে উৎসাহিত করা।
পাঙ্গাওন টার্মিনালকে দেশের প্রধান ইনল্যান্ড কন্টেইনার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, যাতে ঢাকা ও আশেপাশের শিল্পাঞ্চলে কাঁচামাল ও প্রস্তুত পণ্যের সরবরাহ দ্রুত হয়। সমুদ্রবন্দর থেকে সরাসরি রেল বা সড়ক না দিয়ে, নদীর মাধ্যমে লজিস্টিক্সের খরচ ও সময় হ্রাসের প্রত্যাশা করা হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে CPA টার্মিনালের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও, উচ্চ ফ্রেট রেট, দীর্ঘ কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সময় এবং সহায়ক লজিস্টিক্স সেবার অভাবের ফলে অধিকাংশ ক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ টার্মিনালের লোডিং ও আনলোডিং হার প্রত্যাশিতের নিচে রয়ে যায়।
নির্মাণের পর থেকে প্রায় দশ বছর ধরে টার্মিনালটি আর্থিক ক্ষতির মুখে ছিল; ধারাবাহিকভাবে অপারেশনাল ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সরকার টার্মিনালের অবনতি থামাতে এবং বিনিয়োগের রিটার্ন নিশ্চিত করতে একটি কার্যকরী ব্যবস্থাপনা মডেল খুঁজে বের করার প্রয়োজন অনুভব করে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকার টার্মিনালের পরিচালনা একটি দক্ষ বেসরকারি সংস্থার হাতে হস্তান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্য ছিল পেশাদার ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাজারমুখী নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে টার্মিনালের লাভজনকতা ফিরিয়ে আনা।
১৭ নভেম্বর ২০২৫-এ CPA ও মেডলগ বাংলাদেশের মধ্যে ২২ বছরের জন্য টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর



