বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ইউটিউব কন্টেন্ট নির্মাতা ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যিনি IShowSpeed নামেও পরিচিত, ২০টি আফ্রিকান দেশে ২৮ দিনের ট্যুর চালু করেছেন। ৪৮ মিলিয়নের বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে তিনি তরুণ ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে মহাদেশের বৈচিত্র্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে চান। ট্যুরের সময় তিনি ২১ বছর পূর্ণ করবেন এবং তার লক্ষ্য হল আফ্রিকাকে সঠিকভাবে বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করা।
স্পিডের লাইভস্ট্রিমের বৈশিষ্ট্য হল উচ্চ গতি, অপ্রস্তুত ও দীর্ঘ সময়ের সেশন, যা তিন থেকে একারো ঘণ্টা পর্যন্ত চলতে পারে। এই স্বতঃস্ফূর্ত শৈলীর কারণে তিনি তরুণ দর্শকদের মধ্যে বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন এবং তার চ্যানেলটি দ্রুত শীর্ষে উঠে এসেছে।
রুয়ান্ডা ও ইথিওপিয়ার প্রি-টিন বালকরা তার উপস্থিতিতে আনন্দের অশ্রু ঝরিয়ে দিয়েছেন; তারা তার সঙ্গে আলিঙ্গন করে বাস্তবিক নায়কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার স্বপ্ন পূরণ করেছেন। এই মুহূর্তগুলোকে তারা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করে আরও ভক্তের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলেছে।
আফ্রিকান আমেরিকান সম্প্রদায়ের সদস্যরাও স্পিডের ট্যুরকে গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন, কারণ তিনি আফ্রিকান বংশোদ্ভূত একজন তরুণের সফলতা ও প্রভাবের উদাহরণ। তার ২১ তম জন্মদিনের কাছাকাছি এই সফরটি তার জন্য বিশেষ অর্থবহ, যা তার পরিচয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগকে জোরদার করে।
ইসওয়াতিনি (ইসওয়াতিনি) রাজপ্রাসাদে একটি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান শেষে তাকে “লোগিজিমাকো” নামকরণ করা হয়; এই নামের অর্থ “দৌড়ে যাওয়া ব্যক্তি” এবং এটি তাকে রাজার রক্ষক ও পরিবারের রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এই অনুষ্ঠানটি তার ট্যুরের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
অনলাইন ব্যবহারকারীরা তাকে “স্পিডানি” নামে সম্বোধন করে, যা তার দ্রুতগতির কন্টেন্ট ও উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন। এই উপনামটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্তদের মধ্যে নতুন সংযোগের সেতু গড়ে তোলে।
অ্যাঙ্গোলায় ট্যুরের প্রথম স্টপের সময়, একজন ভক্ত সমুদ্রতটে স্পিডের বিখ্যাত মুখভঙ্গি পুনরায় তৈরি করে একটি মিমের রূপে উপস্থাপন করেন, যা দর্শকদের মধ্যে হাসি ও উল্লাসের সঞ্চার ঘটায়। এই সৃজনশীল প্রকাশভঙ্গি তার ভক্তদের উত্সাহ ও সৃজনশীলতাকে তুলে ধরে।
লাইভস্ট্রিমে তিনি আফ্রিকায় পাওয়া ভালোবাসা ও শক্তিশালী উত্সাহের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “এখানে মানুষের উষ্ণতা ও উদ্যম সত্যিই অনন্য।” তার এই মন্তব্যগুলো ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জাগায় এবং ট্যুরের সাফল্যকে আরও দৃঢ় করে।
ট্যুরের সময়সূচি অনুযায়ী, স্পিড এবং তার দল ২০টি দেশের মধ্যে নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট, লিবেরিয়া ও ঘানা সহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতি, ইতিহাস ও খাবার অন্বেষণ করবেন। প্রতিটি দেশে তিনি স্থানীয় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দেশের প্রচার ও পর্যটন উন্নয়নে অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছেন।
সফরের মধ্যে তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশ নেবেন, উচ্চঝুঁকির স্টান্ট প্রদর্শন করবেন এবং স্থানীয় নৃত্য ও সঙ্গীত শিখবেন। এছাড়া তিনি ভক্তদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ, ফটো সেশন এবং অনুরূপ চেহারার ব্যক্তিদের সঙ্গে মেলামেশা করবেন, যা তার ট্যুরকে বহুমুখী ও রঙিন করে তুলবে।
দক্ষিণ আফ্রিকায় তার এক স্টপের সময়, তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে চালনা, আমাপিয়ানো নৃত্য শিখে দেখানো এবং চিতাবাঘের সঙ্গে সংযোগের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন; চিতাবাঘের নখে সামান্য আঘাত পেয়ে তিনি তা হাস্যরসের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই ঘটনাগুলো তার ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে এবং ট্যুরের রঙিন দিকগুলোকে তুলে ধরে।
স্পিডের এই ব্যাপক ট্যুর আফ্রিকান যুব সমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাঠকবৃন্দকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, যদি আপনারা কোনো আফ্রিকান দেশের সংস্কৃতি অন্বেষণ করতে চান, তবে স্থানীয় তরুণ কন্টেন্ট নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটি জানার চেষ্টা করুন; এভাবে ভ্রমণ আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ হবে।



