28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধরোড আইল্যান্ডের স্টেশন নাইটক্লাব ও সুইজারল্যান্ডের লে কনস্টেলেশন বার দু’টি অগ্নিকাণ্ডে মোট...

রোড আইল্যান্ডের স্টেশন নাইটক্লাব ও সুইজারল্যান্ডের লে কনস্টেলেশন বার দু’টি অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৪০ জনের মৃত্যু

২০০৩ সালের শীতকালে যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ওয়েস্ট ওয়ারউইক শহরে অবস্থিত স্টেশন নাইটক্লাবের মঞ্চে ব্যবহার করা পায়রোটেকনিক ফ্লেয়ারগুলো তৎক্ষণাৎ শবদমুক্তি প্যানেলকে জ্বালিয়ে দেয়, ফলে মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার ফলে ১০০ জনের বেশি প্রাণহানি হয় এবং বহু ব্যক্তি গুরুতর পোড়া শিকার হন।

স্টেশন নাইটক্লাবের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন জিনা রুসো এবং তার বাগদত্তা ফ্রেড ক্রিসোস্টোমি। শোয়ের শুরুতে গিটার রিফের সঙ্গে চারটি বড় ফ্লেয়ার মঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসে, যা শবদমুক্তি প্যানেলকে জ্বালিয়ে দেয় এবং দ্রুত অগ্নি বিস্তার ঘটায়। জিনার বর্ণনা অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং মঞ্চের উপরে ঝুলন্ত কাঁচের আলো গলতে থাকে।

দম্পতি দ্রুত নিকটবর্তী দরজার দিকে এগিয়ে যায়, তবে একটি নিরাপত্তা কর্মী তাদের পথ বাধা দেয়। একই সময়ে প্রধান বের হওয়ার পথের দিকে বিশাল ভিড় জমে, যেখানে মানুষ তাড়াতাড়ি বের হতে চায়। জিনার শেষ স্মৃতি হল দরজা পার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো এবং পরে অচেতন হয়ে পড়া।

অগ্নিকাণ্ডের পর জিনা ১১ সপ্তাহের কমা থেকে জেগে ওঠে এবং জানে যে তার বাগদত্তা তার জীবন রক্ষা করার সময় নিজে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার মধ্যে গুরুতর পোড়া এবং শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত ছিল, তবে তিনি ধীরে ধীরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছেন।

ইউএস কর্তৃপক্ষের তদন্তে পাওয়া যায় যে পায়রোটেকনিক ব্যবহার এবং শবদমুক্তি প্যানেলই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে এই ধরনের প্যানেল অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে দেয় এবং জরুরি বের হওয়ার পথকে বাধাগ্রস্ত করে।

২২ বছর পর, ২০২৬ সালের নববর্ষের প্রথম দিন সুইজারল্যান্ডের ক্র্যান্স-মন্টানা স্কি রিসোর্টের লে কনস্টেলেশন বারে অনুরূপ পায়রোটেকনিক ব্যবহার করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে ৪০ জনের বেশি প্রাণ হারায়, বেশিরভাগই তরুণ বয়সের।

সুইস ঘটনার শিকারদের মধ্যে বহুজন গুরুতর পোড়া এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। স্থানীয় জরুরি সেবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তবে অগ্নি দ্রুত ছড়িয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় যে লে কনস্টেলেশন বারের অভ্যন্তরে ব্যবহৃত শবদমুক্তি প্যানেলও একই রকম উপাদান দিয়ে তৈরি ছিল, যা পায়রোটেকনিকের সঙ্গে সংস্পর্শে এসে আগুনের বিস্তার ত্বরান্বিত করে। উভয় ঘটনার সময়ই বের হওয়ার পথের দিকে ভিড় জমে, যা পালানোর সময়কে আরও কঠিন করে তোলে।

দুইটি অগ্নিকাণ্ডের সমান্তরাল বিশ্লেষণে যুক্তরাজ্যের অগ্নি তদন্ত পরামর্শদাতা দলও অংশগ্রহণ করেছে। তারা উভয় ঘটনার মূল কারণ হিসেবে পায়রোটেকনিকের অনুপযুক্ত ব্যবহার এবং শবদমুক্তি প্যানেলের নিরাপত্তা মানের অভাবকে তুলে ধরেছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উভয় ঘটনার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। স্টেশন নাইটক্লাবের মালিক ও লে কনস্টেলেশন বারের পরিচালনাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতে তাদের দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য শোনানির তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা পুনরায় জোর দিয়ে বলছেন যে পাবলিক স্থানে পায়রোটেকনিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত এবং শবদমুক্তি প্যানেলের বিকল্প উপাদান ব্যবহার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে অনুরূপ দুঃখজনক ঘটনা রোধে নিরাপত্তা মানদণ্ডের কঠোর প্রয়োগ এবং জরুরি বের হওয়ার পথের স্পষ্ট চিহ্নিতকরণ অপরিহার্য বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments