28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ায় আক্রমণে আল-কায়েদা নেতা নিহত, তিনজন আমেরিকানকে হত্যা করা গুলিবিদ্ধের সঙ্গে...

যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ায় আক্রমণে আল-কায়েদা নেতা নিহত, তিনজন আমেরিকানকে হত্যা করা গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায় একটি আকাশীয় আক্রমণ চালায়, যার ফলে আল-কায়েদা সংগঠনের একজন উচ্চপদস্থ সদস্য নিহত হয়। এই ব্যক্তি, বিলাল হাসান আল-জাসিম, ইস্লামিক স্টেটের (আইএস) এক গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত ছিলেন, যিনি সিরিয়ায় তিনজন আমেরিকান সৈন্যকে গুলিবিদ্ধ করে নিহত করেছিলেন।

সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রকাশ্যে জানায় যে আল-জাসিমের মৃত্যু শুক্রবারের আক্রমণে ঘটেছে এবং তিনি আইএস গুলিবিদ্ধের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতেন। সেন্টকমের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি সেই গুলিবিদ্ধের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যিনি আমেরিকান ও সিরিয়ান কর্মীদের আঘাত করেছিল।

সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কপার এই ঘটনার পর একটি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, তিনজন আমেরিকানকে হত্যা করা সন্ত্রাসীর সঙ্গে যুক্ত অপারেশন আমাদের সংকল্পকে দৃঢ় করে, এবং যারা আমেরিকান নাগরিক ও সৈন্যদের লক্ষ্য করে কাজ করে তাদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান নেই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, এমন সব দায়িত্বশীলকে অনুসন্ধান ও ধ্বংস করা হবে।

এই আক্রমণটি “অপারেশন হকআই স্ট্রাইক” নামের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এ প্যালমিরা শহরে তিনজন আমেরিকান সৈন্যের মৃত্যু ঘটার পর থেকে চালু হয়েছে। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার আইএস লক্ষ্যবস্তুগুলিতে ধারাবাহিকভাবে নির্ভুল মিসাইল ব্যবহার করে আসছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি অবকাঠামো ও অস্ত্র সংরক্ষণস্থলকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, এবং মোট ২০০টি নির্ভুল মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ায় আইএসের ক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপের মাত্রা প্রকাশ করে।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে, সেন্টকম জানিয়েছে যে ২০ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ১১টি মিশনে প্রায় ২৫ জন আইএস সদস্যকে নিহত বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতা সিরিয়ার উত্তরে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে দমন করার উদ্দেশ্যকে তুলে ধরে।

সিরিয়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে একটি অস্থির পর্যায়ে রয়েছে। তার পরের বছরেই বিদ্রোহী গোষ্ঠী আহমেদ আল-শারাআ, যিনি নিজেকে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামেও পরিচিত, দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার শাসনকালে দেশটি পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

আইএস সিরিয়ায় উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও, ২০২৫ সালে উত্তর-পূর্বে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। এই গোষ্ঠী এখনও সীমিত পরিসরে অস্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ধরনের নির্ভুল আক্রমণকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় সংকল্পের প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপের প্রভাব নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোও সতর্ক দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করছে।

একজন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক উল্লেখ করেন, আল-জাসিমের মৃত্যু আইএসের নেতৃত্বের শৃঙ্খলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাঁক সৃষ্টি করতে পারে, তবে একই সঙ্গে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতের জটিলতা বাড়তে পারে, যদি গোষ্ঠীগুলি নতুন কৌশল গ্রহণ করে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভুল শুটিং ক্ষমতা এবং সিরিয়ার স্থানীয় বাহিনীর সহযোগিতা ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে আরও বিচ্ছিন্ন করতে সহায়ক হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় নির্ভুল মিসাইলের ব্যবহার চালিয়ে যাবে এবং আইএসের অবশিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করবে। পাশাপাশি, সিরিয়ার সরকার ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল গড়ে তোলার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধারাবাহিকতা সিরিয়ার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments