সরকারের দুইটি এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) প্ল্যান্টের নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সময়ের পরেও অগ্রসর হয়নি, ফলে দেশের গ্যাস সরবরাহের বেশিরভাগই বেসরকারি সংস্থার ওপর নির্ভরশীল। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, বিপিসি (বিপিএস) পরিচালিত প্ল্যান্ট থেকে দেশের মোট এলপিজি চাহিদার মাত্র দুই শতাংশই পূরণ হয়, বাকি নব্বই আট শতাংশ বেসরকারি খাত সরবরাহ করে।
পতেঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টের সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারির রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে। রিফাইনারি থেকে এলপিজি সরবরাহ ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে বন্ধ থাকায়, পূর্বের মজুত থেকে দৈনিক মাত্র ১২-১৩টি ট্রাকের গ্যাস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে, যেখানে আগে দৈনিক প্রায় ২২টি ট্রাক পাঠানো হতো।
চার বছর আগে খুলনায় সরকারিভাবে একটি এলপিজি প্ল্যান্টের প্রকল্প অনুমোদন করা হয় এবং সাড়ে ছয় একর জমি প্রস্তুত করা হয়। তবে অজানা কারণে প্রকল্পে কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তবে বছরে এক লাখ মেট্রিক টন এলপিজি সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে খোলনা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়, তবে ফাইলটি এখনও মন্ত্রণালয়ের ফাইলারিতে আটকে রয়েছে।
পতেঙ্গা এলপিজি বটলিং প্ল্যান্টের ইতিহাস ১৯৭৭-৭৮ সালে শুরু হয়। চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশীয় একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার, যেখানে প্রায় সতেরো ধরনের জ্বালানি উৎপাদন হয় এবং শোধন প্রক্রিয়ায় অবশিষ্ট এলপি গ্যাস থেকে এলপিজি তৈরি হয়। এই গ্যাসকে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে পতেঙ্গা বটলিং প্ল্যান্ট চালু করা হয়।
গত তিন বছরে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এলপিজি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে মাসে প্রায় ১,২০০ মেট্রিক টন উৎপাদিত হতো, আর এখন মাসিক উৎপাদন প্রায় ১,৫০০ মেট্রিক টনে পৌঁছেছে। বিপিসি পরিচালিত বটলিং প্ল্যান্টের উৎপাদন ক্ষমতা পূর্বে কম ছিল, তবে এক বছর আগে প্রায় ১.১ কোটি টাকার বিনিয়োগে আধুনিকায়ন করা হয় এবং অটোমেশন সিস্টেম যুক্ত করা হয়।
বিপিসি প্ল্যান্টের ধীরগতি এবং রিফাইনারি রক্ষণাবেক্ষণের ফলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, যা বেসরকারি সংস্থাগুলোর ওপর চাহিদা পূরণের চাপ বাড়াচ্ছে। বেসরকারি খাতের সরবরাহ ক্ষমতা বাড়লেও, সরকারী উদ্যোগের অভাবে বাজারে মূল্য অস্থিরতা এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি সরকার দ্রুত ফাইলগুলো অনুমোদন করে এবং প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করে, তবে গ্যাসের ঘাটতি কমে এবং মূল্য স্থিতিশীল হতে পারে। একই সঙ্গে, বেসরকারি সংস্থাগুলোর জন্যও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে আধুনিকায়ন ও অটোমেশন প্রযুক্তিতে।
অবিলম্বে মন্ত্রণালয়ের ফাইল পর্যালোচনা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা জরুরি, যাতে খুলনা প্রকল্পের মতো বড় স্কেলের প্ল্যান্ট দ্রুত নির্মাণে আসে। এছাড়া, রিফাইনারির রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা সুনির্দিষ্টভাবে তৈরি করে সরবরাহ বন্ধের সময় কমানো উচিত, যাতে গ্রাহকদের উপর প্রভাব হ্রাস পায়।
সারসংক্ষেপে, বিপিসি পরিচালিত এলপিজি প্ল্যান্টের অগ্রগতি ধীর এবং সরকারী ফাইলের অমীমাংসা বাজারে সরবরাহের ঘাটতি বাড়াচ্ছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো বর্তমানে গ্যাসের প্রধান সরবরাহকারী, তবে দীর্ঘমেয়াদে সরকারী উদ্যোগের সমর্থন ছাড়া বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। ভবিষ্যতে ফাইল অনুমোদন, আধুনিকায়ন এবং রিফাইনারি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি গ্যাস সরবরাহের নিরাপত্তা ও মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।



