ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার মতবিনিময় সভা শনিবার বিকালে সরাইলের নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম হঠাৎ উপস্থিত হয়ে সমাবেশে প্রবেশ করেন। উপস্থিতি দেখে রুমিন ফারহানা তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন এবং সভার পরিবেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হাকিমের অপ্রত্যাশিত প্রবেশের পর রুমিন ফারহানা তাকে সরাসরি তার বয়সের চিহ্ন দেখিয়ে তাড়া দেন। তিনি হাকিমের হাতে বৃদ্ধের চিহ্ন তুলে ধরেন এবং বললেন, এমন আচরণে তিনি কোনো কিছু করতে পারবেন না। রুমিনের এই প্রতিক্রিয়া সমাবেশের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে চিৎকারের স্রোত তৈরি করে। তার কথায় তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কোনো বাধা না দিলেও তাদের ওপর বাধা আরোপ করা হচ্ছে।
বৈধতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার নামে হাকিম রুমিন ফারহানাকে ৪০,০০০ টাকার জরিমানা আরোপ করেন। জরিমানা পরিশোধের দায়িত্ব রুমিনের সমর্থক মো. জুয়েল নেন এবং তা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। জরিমানা আরোপের সঙ্গে সঙ্গে হাকিম রুমিনকে সভা থেকে বের হতে নির্দেশ দেন, যা রুমিনের মুখে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি করে।
নির্বাহী হাকিমের মতে, রুমিনের আচরণ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এবং তাই তাকে তৎক্ষণাৎ স্থান ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। রুমিন বের হওয়ার সময় তার স্বভাবিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং তিনি উপস্থিতদের নীরব থাকতে অনুরোধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে চান।
সরাইল উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার আবু বকর সরকার জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫ এর ধারা ১৮ অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধারা অনুযায়ী কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনী সময়ে অশোভন আচরণে শাস্তি দেওয়া যায়। আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট হওয়ায় রুমিনের বিরুদ্ধে আরোপিত জরিমানা বৈধ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা নিজে বলেন, বড় দলের প্রার্থীরা মঞ্চ ও মাইক্রোফোন ব্যবহার করে প্রচার চালায়, তবে তার ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। তিনি বলেন, তিনি মাইক্রোফোন ছাড়া সরাসরি কথা বলেন এবং তার কথায় কোনো দলীয় সমর্থন নেই। রুমিনের মতে, তার প্রচারাভিযান স্বচ্ছ এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগের ওপর ভিত্তি করে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে।
বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানোর প্রসঙ্গে রুমিন উল্লেখ করেন, তিনি কেন প্রশাসনকে তার বয়সের চিহ্ন দেখাবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, প্রশাসনের প্রতি তার কোনো অবমাননা নয়, বরং তিনি তার স্বতন্ত্র অবস্থানকে দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করছেন। রুমিনের এই মন্তব্যে তিনি নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন।
এই ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রুমিনের এই তীব্র প্রতিক্রিয়া তার ভোটার ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে একই সঙ্গে জরিমানা ও আদালতের হস্তক্ষেপ তার প্রচারাভিযানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের সংঘাত ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।
আইনি দিক থেকে রুমিনের দল জরিমানা বাতিলের জন্য আপিল করতে পারে, যা আদালতে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে। নির্বাচনী কমিশনের দিকনির্দেশনা ও আইনগত প্রক্রিয়া এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে যদি রুমিনের আপিল সফল হয়, তবে এটি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
সামগ্রিকভাবে, রুমিন ফারহানার স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে তার অবস্থান, নির্বাহী হাকিমের জরিমানা আরোপ এবং সংশ্লিষ্ট আইনগত পদক্ষেপগুলো আগামী নির্বাচনী পরিবেশে নতুন গতিবিধি তৈরি করবে। উভয় পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি ও আইনগত প্রয়োগের ফলাফল নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতির জটিলতা ও নির্বাচনী শৃঙ্খলার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে।



