ম্যাট ড্যামন এবং বেন অ্যাফ্লেক সম্প্রতি জো রগান এক্সপেরিয়েন্সে উপস্থিত হয়ে নেটফ্লিক্সের চলচ্চিত্র তৈরির পদ্ধতিতে পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। দুজনই নতুন নেটফ্লিক্স প্রকল্প ‘দ্য রিপ’ প্রচারের জন্য এই আলোচনায় অংশ নেন এবং সিনেমা দেখার অভ্যাসের পরিবর্তন কীভাবে কন্টেন্টের গঠনকে প্রভাবিত করছে তা বিশদে ব্যাখ্যা করেন। এই সাক্ষাৎকারে ড্যামন থিয়েটার ও বাড়িতে সিনেমা দেখার পার্থক্য এবং স্মার্টফোনের ব্যবহারকারীর মনোযোগের হ্রাস নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।
ড্যামন উল্লেখ করেন, তিনি সম্প্রতি পরিবারসহ একটি আইম্যাক্স সিনেমা দেখেছেন, যেখানে তিনি একাধিক অপরিচিতের সঙ্গে শেয়ার করা অভিজ্ঞতাকে এক ধরনের ধর্মীয় সমাবেশের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, বড় স্ক্রিনে একসাথে বসে গল্পের মধ্যে ডুবে থাকা, সময়ের নির্ধারিত সূচিতে উপস্থিত হওয়ার মতো, যা বাড়িতে ঘরে বসে আলোর নিচে, শিশুর কোলাহল ও পোষা প্রাণীর দৌড়ে ভরা পরিবেশে সম্ভব নয়।
বাড়িতে সিনেমা দেখার সময় ঘরের আলো, পারিবারিক কাজকর্ম এবং পোষা প্রাণীর চলাচল ইত্যাদি মনোযোগের স্তরকে প্রভাবিত করে, এ কথায় ড্যামন জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পরিবেশে দর্শকরা গল্পের মূল বিষয়গুলো মিস করতে পারেন, ফলে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে নতুনভাবে কন্টেন্ট গঠন করতে হয়।
ড্যামন নেটফ্লিক্সের বর্তমান অ্যাকশন চলচ্চিত্রের গঠন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি বলেন, পূর্বে সাধারণত তিনটি প্রধান দৃশ্য (সেট পিস) ব্যবহার করা হতো—প্রথম অঙ্কে এক, দ্বিতীয়ে আরেকটি, এবং তৃতীয়ে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণসহ সমাপ্তি দৃশ্য। এই পদ্ধতিতে অধিকাংশ বাজেট শেষ দৃশ্যে ব্যয় করা হতো।
এখন নেটফ্লিক্সের চাহিদা পরিবর্তিত হয়েছে; তারা প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে একটি বড় আকর্ষণীয় দৃশ্য রাখতে চায় যাতে দর্শকের মনোযোগ ধরে রাখা যায়। ড্যামন উল্লেখ করেন, এই পরিবর্তনের ফলে গল্পের মূল বিষয়গুলোকে সংলাপে তিন থেকে চারবার পুনরাবৃত্তি করা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে, কারণ অনেক দর্শক সিনেমা দেখার সময় ফোনে ব্যস্ত থাকেন।
ড্যামন এবং অ্যাফ্লেকের কথায় রগানও হাস্যরসের সঙ্গে যুক্ত হন, যেখানে তিনি এই নতুন পদ্ধতিকে চলচ্চিত্রের বর্ণনায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে আলোচনা করেন। ড্যামন স্বীকার করেন, এই ধরনের পরিবর্তন চলচ্চিত্রের গল্প বলার শৈলীতে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসবে, তবে একই সঙ্গে নতুন সৃজনশীল সুযোগও তৈরি করবে।
ড্যামন আরও উল্লেখ করেন, নেটফ্লিক্সের এই কৌশল দর্শকের মনোযোগের পরিবর্তনকে বিবেচনা করে তৈরি, যা আধুনিক সময়ে স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহারকে প্রতিফলিত করে। তিনি বলেন, যদি দর্শক সিনেমা দেখার সময় ফোনে স্ক্রল করে থাকে, তবে সংলাপের মাধ্যমে গল্পের মূল বিষয় পুনরায় উল্লেখ করা প্রয়োজন হতে পারে।
এই আলোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলো এখন দর্শকের আচরণকে সরাসরি চলচ্চিত্রের গঠনে অন্তর্ভুক্ত করছে। ড্যামন এবং অ্যাফ্লেকের মত অভিজ্ঞ অভিনেতা-প্রযোজকরা এই পরিবর্তনের প্রভাব firsthand অনুভব করছেন এবং তা নিয়ে উন্মুক্তভাবে মতামত প্রকাশ করছেন।
ড্যামনের মতে, ভবিষ্যতে চলচ্চিত্র নির্মাতাদেরকে আরও বেশি করে সংলাপের মাধ্যমে গল্পের মূল বিষয় পুনরায় উল্লেখ করতে হতে পারে, যাতে ফোনে ব্যস্ত দর্শকও মূল কাহিনী বুঝতে পারে। তিনি এই পরিবর্তনকে “প্রয়োজনীয় অভিযোজন” হিসেবে উল্লেখ করেন, যা দর্শকের অভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
অ্যাফ্লেকও একই দৃষ্টিভঙ্গি ভাগ করে নেন, যদিও তিনি সরাসরি বিশদে যাননি, তবে তিনি ড্যামনের মন্তব্যকে সমর্থন করেন যে, নেটফ্লিক্সের কন্টেন্ট স্ট্র্যাটেজি এখন দ্রুত মনোযোগ আকর্ষণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সারসংক্ষেপে, ড্যামন এবং অ্যাফ্লেকের এই আলোচনা নেটফ্লিক্সের নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণ পদ্ধতি এবং দর্শকের ফোন-দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে শিল্পকে প্রভাবিত করছে তা স্পষ্ট করে। তারা উভয়ই স্বীকার করেন, এই পরিবর্তন চলচ্চিত্রের গঠনকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে, যাতে দর্শকরা বাড়িতে বসে ফোনে ব্যস্ত থাকলেও গল্পের মূল স্রোত বজায় থাকে।
এই পরিবর্তনগুলো ভবিষ্যতে সিনেমা শিল্পের জন্য নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে, যেখানে দ্রুত আকর্ষণ এবং পুনরাবৃত্তি মূল কাহিনীর অংশ হয়ে উঠবে। ড্যামন এবং অ্যাফ্লেকের মত অভিজ্ঞ শিল্পকর্মী এই প্রবণতাকে স্বীকৃতি দিয়ে, দর্শকের অভ্যাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কন্টেন্ট তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছেন।



