22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমোশে ইয়ালন তেল আবিবের বিক্ষোভে নেতানিয়াহু সরকারের কঠোর সমালোচনা

মোশে ইয়ালন তেল আবিবের বিক্ষোভে নেতানিয়াহু সরকারের কঠোর সমালোচনা

তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে গতকাল বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোশে ইয়ালন বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের নীতি ও নেতৃত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি ইসরায়েলের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও কট্টরপন্থী শাসনের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন।

ইয়ালন, যিনি পূর্বে জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পদে ছিলেন, তার ভাষণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন সরকারকে কঠোরভাবে সমালোচনা করা হয়। তিনি বলেন, সরকার দেশের অভ্যন্তরে সৃষ্ট অশান্তি ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মূল কারণ।

বক্তব্যের মধ্যে তিনি ইতামার বেন-গাভিরের নীতি-প্রণয়নকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করেন। ইয়ালন উল্লেখ করেন, বেন-গাভির ইরানি শাসনের দমন পদ্ধতি দেখে ঈর্ষা পেয়েছেন এবং একই রকম কঠোর দমন নীতি ইসরায়েলে প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক। এই মন্তব্য ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির দিকে নতুন আলো ফেলেছে।

ইয়ালন নেতানিয়াহুর ক্ষমতার মোহ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে, তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রী তদন্ত কমিশন ও আদালতের নজরদারি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে নিজের গদি দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন। এই অভিযোগ সরকারী স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছে।

মোশে ইয়ালন আরও জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েল এখন কোনো বহিঃশত্রুর মুখোমুখি নয়, বরং নিজের সরকারের নীতি-প্রণয়নের কারণে অভ্যন্তরীণ হুমকির সম্মুখীন। তিনি সরকারের কাজকে স্বৈরাচারী, বর্ণবাদী এবং পশ্চাদপদ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মর্যাদা ক্ষয় করে।

ইয়ালনের মতে, বর্তমান শাসনব্যবস্থা ইসরায়েলকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছে যেখানে দেশটি আন্তর্জাতিক সমর্থন হারাতে পারে এবং একঘেয়ে হয়ে পড়তে পারে। তিনি ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর এই নীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি দুইটি সম্ভাব্য পথের কথা উল্লেখ করেন। প্রথমটি হল ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি, যা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি হতে পারে। দ্বিতীয়টি হল দখল বজায় রাখা ও জাতিগত নিধনের মতো ধ্বংসাত্মক নীতি চালিয়ে যাওয়া।

ইয়ালনের এই মন্তব্যের পরই হাবিমা স্কয়ারে উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে তীব্র আলোচনা দেখা যায়। অংশগ্রহণকারীরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত বা অসম্মত হয়ে উঁচু স্বরে মত প্রকাশ করেন, যা প্রতিবাদকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

প্রতিবাদে উপস্থিত বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা ইয়ালনের সমালোচনাকে স্বাগত জানান, তবে কিছু গোষ্ঠী সরকারের নীতি সমর্থন করে তার মন্তব্যকে অস্বীকার করে। এই বৈচিত্র্যময় প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনকে স্পষ্ট করে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ইয়ালনের মতামত সরকারী নীতি পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে, বিশেষ করে যখন তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে জোর দেন। তার অভিজ্ঞতা ও প্রভাব রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অধিকন্তু, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই ধরনের অভ্যন্তরীণ সমালোচনাকে ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করছেন। যদি সরকার এই সমালোচনাকে উপেক্ষা করে, তবে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা বাড়তে পারে।

সারসংক্ষেপে, মোশে ইয়ালনের হাবিমা স্কয়ারে দেওয়া ভাষণ ইসরায়েলের বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি এক কঠোর সমালোচনা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তিনি সরকারের অভ্যন্তরীণ হুমকি, স্বৈরাচারী প্রবণতা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার ক্ষতি নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন, এবং দুইটি সম্ভাব্য পথের মধ্যে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments